ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট প্রভাবশালী দৈনিক দ্য হারেৎজ-এ প্রকাশিত এক মন্তব্য প্রতিবেদনে গাজায় ইসরাইলের চলমান সামরিক অভিযানের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, বর্তমানে ইসরাইল গাজায় এমন এক যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে, যার কোনো সুস্পষ্ট লক্ষ্য, পরিকল্পনা বা সাফল্যের সম্ভাবনা নেই। এই যুদ্ধকে তিনি ইসরাইলের ইতিহাসে “নজিরবিহীন উদ্দেশ্যহীন” বলে উল্লেখ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারকে তিনি “অপরাধী চক্র” হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, এই সরকার ইসরাইলের ইতিহাসে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
ওলমার্টের মতে, গাজায় ইসরাইলি সেনাবাহিনীর “গিডিয়ন” অভিযানের ফলে বিশৃঙ্খল তৎপরতা স্পষ্ট। বিশেষ করে গাজা সিটি, জাবালিয়া এবং খান ইউনুসের আশেপাশে সেনাবাহিনীর তৎপরতা কোনো বৈধ লক্ষ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। তিনি বলেন, এই অভিযানে হামাস যোদ্ধাদের পাশাপাশি বহু নিরপরাধ বেসামরিক মানুষও নিহত হচ্ছে, যারা ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান “অকারণ মৃত্যুর পরিসংখ্যানের” অংশ হয়ে উঠছে। তিনি আরও বলেন, এই যুদ্ধ এখন নেতানিয়াহুর “ব্যক্তিগত রাজনৈতিক যুদ্ধে” রূপ নিয়েছে, যার ফলে গাজা এক মানবিক বিপর্যয় অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।
এহুদ ওলমার্ট পূর্বে গাজায় ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে উত্থাপিত গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের বিরোধিতা করলেও এখন তিনি তার অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। তিনি বলেন, “আমি পূর্বে বিশ্বাস করতাম যুদ্ধাপরাধ ঘটেনি। কিন্তু এখন আমি আর তা বলতে পারি না।” তিনি বর্তমান যুদ্ধকে “ধ্বংসাত্মক, অগণতান্ত্রিক, নিষ্ঠুর এবং অপরাধমূলক” বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি দাবি করেন, এটি কোনো নিয়ন্ত্রণহীনতা বা বিচ্ছিন্ন ঘটনার ফল নয়, বরং একটি “সুপরিকল্পিত সরকারি নীতির ফলাফল”। তিনি আরও বলেন, গাজাবাসীদের খাদ্য, ওষুধ ও মানবিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত করার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে, যার উদ্দেশ্য তাদের “নিশ্চিহ্ন করা”।
ওলমার্ট উল্লেখ করেছেন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন, বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার, ডাচ প্রধানমন্ত্রী এবং ইতালির জর্জিয়া মেলোনির মতো নেতারা ইসরাইলবিরোধী নন, বরং নেতানিয়াহু সরকারের নীতির বিরুদ্ধে। ম্যাক্রনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা তোমার পাশে থেকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র রুখেছি, আর তুমি আমাদের সন্ত্রাসবাদের সমর্থক বলছ?” কানাডা, বৃটেন, ফ্রান্সের মতো ইসরাইলঘনিষ্ঠ দেশগুলো এখন নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপের কথা বলছে। এমনকি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ইসরাইলের চুক্তি পুনর্বিবেচনার প্রস্তাবও উঠেছে।
ওলমার্ট আরও বলেন, গাজার পাশাপাশি পশ্চিম তীরেও ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর নৃশংসতা চলছে। “হিলটপ ইয়ুথ” নামে পরিচিত চরমপন্থি বসতি স্থাপনকারীরা প্রতিদিন অপরাধ করছে, আর পুলিশ ও সেনাবাহিনী নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। তিনি উল্লেখ করেন, এমনকি সেনাবাহিনীর অভিজাত ইউনিটগুলোও বেসামরিক মানুষের ওপর গুলিবর্ষণ, ঘরবাড়ি ধ্বংস এবং লুটপাটে জড়িত।
ওলমার্ট সতর্ক করে বলেন, এই যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ না করলে ইসরাইলকে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। তিনি বলেন, “এবার যথেষ্ট হয়েছে। আর নয়।” তিনি নেতানিয়াহু সরকারকে ইসরাইলের “ভেতরের শত্রু” হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এই সরকার সমাজের ঐক্য, সহযোগিতা ও সহনশীলতা ধ্বংস করছে।



































































































































































































































































































































































































































































































































































































































