ইরানের সিস্তান-বেলুচিস্তানে আদালত ভবনে হামলা-newsedge24

ইরানের সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশের রাজধানী জাহেদানে একটি আদালত ভবনে সশস্ত্র হামলায় নয়জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজন নারী ও তার সন্তান রয়েছেন। হামলাকারীরা হ্যান্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে এবং এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে তিন হামলাকারী নিহত হয়। এই ঘটনার দায় স্বীকার করেছে সুন্নি বেলুচ সশস্ত্র গোষ্ঠী জইশ আল-আদল। বেলুচ মানবাধিকার সংগঠন হালভশ-এর বরাতে জানা গেছে, হামলায় বিচার বিভাগের বেশ কয়েকজন কর্মী নিহত ও আহত হয়েছেন।

সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশ, যা পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সীমান্তের কাছে অবস্থিত, ইরানের সুন্নি বেলুচ সংখ্যালঘুদের প্রধান আবাসস্থল। এই সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক প্রান্তিককরণ, রাজনৈতিক বর্জন এবং ধর্মীয় বৈষম্যের অভিযোগ করে আসছে। প্রদেশটিতে ইরানের শিয়া-প্রধান সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র গোষ্ঠী, বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং সুন্নি জঙ্গিদের সঙ্গে নিয়মিত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

জইশ আল-আদল, ২০১২ সালে জুন্দাল্লাহ গোষ্ঠীর ভাঙনের পর গঠিত, দীর্ঘদিন ধরে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে আসছে। এই গোষ্ঠী বেলুচদের অধিকার ও স্বায়ত্তশাসনের জন্য লড়াই করার দাবি করে, তবে ইরান সরকার তাদের বিদেশি শক্তি, বিশেষ করে পাকিস্তান, সৌদি আরব, এবং অতীতে মার্কিন ও ইসরায়েলের সমর্থনপুষ্ট বলে অভিযোগ করে।

জইশ আল-আদল তাদের টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে হামলার দায় স্বীকার করে বলেছে, “নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য সংঘর্ষের এলাকা ত্যাগ করুন।” হামলাকারীরা দর্শনার্থী হিসেবে ছদ্মবেশে আদালত ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল বলে জানিয়েছেন সিস্তান-বেলুচিস্তানের ডেপুটি পুলিশ কমান্ডার আলিরেজা দালিরি।

ইরান সরকার এই অঞ্চলের অস্থিরতার জন্য প্রায়ই পাকিস্তানকে দায়ী করে, দাবি করে যে জইশ আল-আদল পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে আশ্রয় নিয়েছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ইরান পাকিস্তানের ভূখণ্ডে জইশ আল-আদলের ঘাঁটিতে হামলা চালায়, যার জবাবে পাকিস্তানও ইরানের সিস্তান-বেলুচিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। এই ঘটনাগুলো দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়েছে, যদিও তারা যৌথভাবে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর চুক্তি করেছে।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে ফ্রান্স

ইরানে সিস্তান-বেলুচিস্তানে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক দারিদ্র্য, অবকাঠামোগত উন্নয়নের অভাব এবং সুন্নি বেলুচদের প্রতি শিয়া-প্রধান সরকারের বৈষম্য এই অঞ্চলে অস্থিরতার প্রধান কারণ। জুন্দাল্লাহ এবং জইশ আল-আদলের মতো গোষ্ঠীগুলো এই অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে তাদের সশস্ত্র তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে, তাদের লক্ষ্য নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে—কেউ কেউ বলেন, এটি বিচ্ছিন্নতাবাদ, আবার কেউ বলেন, এটি ধর্মীয় জিহাদি উদ্দেশ্য দ্বারা পরিচালিত।

ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী এই অঞ্চলে ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে এবং জঙ্গি ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে, এই হামলার ঘটনা প্রদেশটির চলমান অস্থিরতা এবং জটিল ভূ-রাজনৈতিক গতিশীলতার প্রতিফলন। তদন্তে হামলার কারণ এবং এর পেছনের সম্ভাব্য বিদেশি সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *