প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-trump-newsedge24

যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিলেও কৌশলগতভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্রমেই দিশাহীন হয়ে পড়ছেন। একদিকে ইরানের ওপর কঠোর নৌ-অবরোধ ও সামরিক চাপ বজায় রাখা, অন্যদিকে হঠাৎ আলোচনার সম্ভাবনার কথা বলা—এই দ্বৈত অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে দেশটির সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টারের প্রধান আলী আবদোল্লাহি বলেন, “ইসলামী প্রজাতন্ত্রের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর এবং লোহিত সাগর দিয়ে কোনো ধরনের আমদানি-রপ্তানি চলতে দেবে না।” তিনি মার্কিন নৌ-অবরোধকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরান ‘চূড়ান্ত পদক্ষেপ’ নিতে প্রস্তুত।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, ইরানের সমুদ্রপথে প্রায় সব ধরনের অর্থনৈতিক কার্যক্রম ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, অবরোধ শুরুর ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের ভেতরে ও বাইরে সমুদ্রপথে বাণিজ্য কার্যত স্থবির করে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

তবে এই অবরোধ উপেক্ষা করে একটি ইরানি সুপার ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে ইমাম খোমেনি বন্দরের দিকে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বুধবার জেদ্দায় পৌঁছে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এরপর তিনি কাতার ও তুরস্ক সফর করবেন। পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

আরও পড়ুন: ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনার ইঙ্গিত ট্রাম্পের

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আশা প্রকাশ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার ‘প্রবল সম্ভাবনা’ রয়েছে এবং এই সংকটের সামরিক সমাধান নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। হরমুজ ও লোহিত সাগরের বাণিজ্যপথ বন্ধ হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

1 comment on “কৌশলগতভাবে দিশাহীন হয়ে পড়ছেন ট্রাম্প”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *