সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান-010208-NewsEdge24

সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় গত কয়েক দিন ধরে হামলা চালাচ্ছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শঙ্কায় রয়েছেন। তাই ৪১ বছর বয়সী এই যুবরাজকে কড়া নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে বাংকার-সুবিধাসম্পন্ন বিভিন্ন রাজপ্রাসাদে দফায় দফায় সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক সংবাদে এমনটি জানানো হয়েছে।

গত শনিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ভয়াবহ হামলা হয়। গত এক দশকের মধ্যে সৌদি আরবের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় ও রক্তক্ষয়ী হামলা। এ হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত ও ৩০০ জনের বেশি আহত হন। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের বিমান হামলায় যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অংশ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। পাশাপাশি রিয়াদের ‘মক্কা চুক্তি’র মিত্ররাও সৌদি আরবের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

হুতিদের হামলার পর গত মঙ্গলবার একটি জাতীয় রক্তদান কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা যায় যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে। তবে এরপর থেকে তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। তার সুরক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তারা জানান, ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াই তীব্র হওয়ায় তার নিরাপত্তায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। লোকচক্ষুর আড়ালে রেখে বিশেষভাবে বাছাই করা একটি সুদক্ষ নিরাপত্তা দলের তত্ত্বাবধানে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে মন্তব্যের জন্য সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: পশ্চিম তীর বসতি স্থাপন নিয়ে বৃটেন-ইসরাইল উত্তেজনা চরমে

হুতিদের এক মুখপাত্র রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করে স্পষ্ট জানিয়েছেন, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোয় তাদের এ হামলা অব্যাহত থাকবে। গত পাঁচ দিনে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চারবার হামলা চালানো হয়েছে। গত সপ্তাহান্তের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর থেকেই এ বিমানবন্দরটি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। উড়োজাহাজ চলাচলবিষয়ক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘সিরিয়াম’-এর তথ্য অনুযায়ী, এ অচলাবস্থার কারণে রিয়াদ বিমানবন্দরের নির্ধারিত ফ্লাইটের প্রায় ৬০ শতাংশই বাতিল করতে হচ্ছে।

হুতিদের এমন আক্রমণের জবাবে সৌদির জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান বলেছেন, হামলার ভয়াবহতা বিবেচনা করে সৌদি আরবের প্রতিক্রিয়াও সমপর্যায়ের কঠোর হবে। তবে দেশটির কর্মকর্তারা গোপনে স্বীকার করেছেন যে একের পর এক হামলা ঠেকাতে গিয়ে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের (ইন্টারসেপ্টর) মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করতে গত মাসে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছে রিয়াদ। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে স্বয়ং যুক্তরাষ্ট্রের নিজের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও এখন বেশ কম।

আরও পড়ুন: সৌদি আরবে হামলায় নিন্দা পাকিস্তানের, পাশে থাকার অঙ্গীকার

দীর্ঘদিন ধরে চলা এক রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের পর ২০২২ সালে সৌদি আরব ও হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে এক ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। কিন্তু গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হলে সেই চুক্তি পুরোপুরি ভেস্তে যায়। ইয়েমেনের সানা বিমানবন্দর থেকে হুতিদের প্রতিনিধিদের নিয়ে তেহরানগামী ইরানের একটি উড়োজাহাজ উড্ডয়নের চেষ্টার সময় সৌদি বাহিনী গুলি চালিয়েছে—হুতিরা এ অভিযোগ তোলার পরই মূলত এই অঞ্চলে নতুন করে সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে।

ইরান-সমর্থিত হুতিরা এ অঞ্চলে তেহরানের অন্যতম প্রধান ও সুসজ্জিত মিত্র সামরিক শক্তি। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, আরব উপদ্বীপের এ উত্তেজনা বৃদ্ধি নিয়ে তেহরান গভীরভাবে চিন্তিত। এ লড়াইয়ের ফলে শুধু ইসরায়েল সরকারই লাভবান হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম

উত্তেজনা প্রশমনে গত রোববার রাতে সৌদি আরব ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা টেলিফোনে দীর্ঘ আলাপ করেছেন বলে জানা গেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রাজনৈতিক সমাধান উপেক্ষা করে শুধু সামরিক পথে হাঁটার ব্যাপারে রিয়াদকে সতর্ক করেছেন। সেই সঙ্গে রিয়াদ ও হুতিদের মধ্যে রাজনৈতিক সংলাপ শুরু করতে তেহরান সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *