স্টিভ উইটকফ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধবিরতির জন্য আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। গত সপ্তাহে তিনি ওয়াশিংটনে রাশিয়ার প্রতিনিধির সঙ্গে নৈশভোজের পর ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি প্রস্তাব দেন যে, ইউক্রেনের চারটি অঞ্চল রাশিয়ার কাছে হস্তান্তর করলে দ্রুত যুদ্ধবিরতি সম্ভব। এই অঞ্চলগুলো হলো লুহানস্ক, দোনেৎস্ক, জাপোরিঝিয়া, এবং খেরসন, যা ২০২২ সালে রাশিয়া অবৈধভাবে দখল করার চেষ্টা করেছিল।
প্রস্তাবের বিস্তারিত
উইটকফের প্রস্তাব অনুসারে, এই অঞ্চলগুলোর হস্তান্তর যুদ্ধবিরতির জন্য দ্রুততম উপায় হতে পারে। তিনি এই অঞ্চলগুলোকে “রুশভাষী” বলে বর্ণনা করেছেন এবং দাবি করেছেন যে, ২০২২ সালের গণভোটে বেশিরভাগ মানুষ রাশিয়ার শাসনাধীন থাকতে চায়। তবে, এই গণভোটের পদ্ধতি এবং ফলাফল পশ্চিমা দেশগুলো অস্বীকার করেছে, এটিকে একটি প্রহসন বলে অভিহিত করেছে। উইটকফ এই প্রস্তাব আগেও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব টাকার কার্লসনের সঙ্গে একটি পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছিলেন, যা বিতর্কের কারণ হয়েছে।
প্রতিক্রিয়া এবং সমালোচনা
এই প্রস্তাব ইউক্রেনের পক্ষ থেকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এর আগে জানিয়েছেন যে, তাদের ভূখণ্ডের কোনো অংশ ছাড় দেওয়া হবে না। মার্কিন প্রশাসনের মধ্যেও মতভেদ রয়েছে। জেনারেল কিথ কেলোগ, ইউক্রেনে নিযুক্ত মার্কিন দূত, উইটকফের প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বলেছেন যে, ইউক্রেন কিছু শর্তে আলোচনায় রাজি হলেও পুরোপুরি অঞ্চল হস্তান্তর মেনে নেবে না। কেলোগ আরও ইউক্রেনকে আরও সরাসরি সমর্থন দেওয়ার পক্ষে কথা বলেছেন।
মার্কিন কংগ্রেসের কিছু রিপাবলিকান এবং ডেমোক্র্যাট সদস্য উইটকফের রাশিয়াপন্থী অবস্থান সমালোচনা করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র নেড প্রাইস বলেছেন, উইটকফ এবং ট্রাম্প একটি বড় কূটনৈতিক ভুল করেছেন। অন্যদিকে, কিছু রিপাবলিকান সদস্য উইটকফের সমর্থনে কথা বলেছেন, তবে তার প্রস্তাব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ইউরোপীয় সঙ্গীদেশগুলো উদ্বিগ্ন, কারণ তাদের মনে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা পরিষ্কার নয়। দুই ইউরোপীয় কর্মকর্তা বলেছেন, দ্রুত ফল পাওয়ার জন্য আলোচনাকারী দলকে চাপ দেওয়া হচ্ছে, যা ইউক্রেন এবং ইউরোপের নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমান অবস্থা এবং আলোচনা
ট্রাম্প এখনো এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি, এবং আলোচনা চলমান। সাম্প্রতিক উন্নয়নে, সৌদি আরবিয়ায় আলোচনায় ইউক্রেন ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাবে রাজি হয়েছে । উইটকফ গত শুক্রবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৫, সেন্ট পিটার্সবার্গে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, যা চার ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলেছিল এবং ইউক্রেনীয় সমাধানের দিকে ফোকাস করেছিল । তবে, এই আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশিত হয়নি।
ট্রাম্প বারবার বলেছেন যে, তিনি মে মাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চান, কিন্তু জ্বালানি অবকাঠামো এবং কৃষ্ণসাগর নিয়ে আংশিক চুক্তি স্থবির হয়ে আছে । উইটকফের অভিজ্ঞতার অভাব নিয়ে মার্কিন এবং ইউরোপীয় কর্মকর্তারা উদ্বিগ্ন, আশঙ্কা করছেন রাশিয়া এর সুযোগ নিতে পারে ।
উইটকফের প্রস্তাব একটি জটিল এবং বিতর্কিত বিষয়, যা ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব, মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি, এবং ইউরোপীয় নিরাপত্তার ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। আলোচনা চলমান, এবং ভবিষ্যতে কীভাবে এগোবে তা নির্ভর করবে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত এবং আন্তর্জাতিক চাপের ওপর।






































































































































































































































































































































































































































































































































































































































