গাজা উপত্যকা: রাফার পশ্চিমাঞ্চলে আল-মাওয়াসি এলাকায় গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) পরিচালিত একটি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের কাছে ইসরাইলি বাহিনী হামলা চালিয়েছে। ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা এবং হামাস-পরিচালিত সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় কমপক্ষে ৩১ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১১৫ জনের বেশি আহত হয়েছেন। তবে, প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, তাদের চিকিৎসা দল ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং ২৩ জন আহতকে চিকিৎসা দিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে ওয়াফা জানায়, ইসরাইলি বাহিনী ট্যাঙ্ক ও ড্রোন থেকে সরাসরি গুলি চালায়, যখন শত শত মানুষ ত্রাণের জন্য অপেক্ষা করছিল। এই হামলায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা “ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে তাদের গুলির কারণে কোনো হতাহতের বিষয়ে অবগত নয়” এবং বিষয়টি “এখনও পর্যালোচনাধীন।” তেল আবিব থেকে এ বিষয়ে আর কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
জিএইচএফ একটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল-সমর্থিত সংস্থা, যা সম্প্রতি গাজায় ত্রাণ বিতরণ শুরু করেছে। তবে, জাতিসংঘ এবং অন্যান্য ত্রাণ সংস্থা এই ব্যবস্থার সঙ্গে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, কারণ এটি মানবিক নীতি লঙ্ঘন করে এবং ইসরাইলকে ত্রাণ বিতরণে নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দেয়। গত ২৭ মে থেকে জিএইচএফ ত্রাণ বিতরণ শুরু করলেও, এর আগেও এ ধরনের কেন্দ্রের কাছে হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামাসের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ এপ্রিল একটি ত্রাণ কেন্দ্রের সামনে ইসরাইলি বোমা হামলায় ৩ জন নিহত এবং ৪৬ জন আহত হয়েছিলেন।
গাজায় ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলের সামরিক অভিযানে ৫৪,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে বলে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসরাইলের নিষেধাজ্ঞার কারণে ত্রাণ প্রবেশ বন্ধ থাকায় দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা তীব্র হয়েছে। জাতিসংঘ গাজাকে “পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষুধার্ত স্থান” হিসেবে বর্ণনা করেছে। জাতিসংঘ ও ত্রাণ সংস্থাগুলোর অভিযোগ, ইসরাইল ত্রাণকে “অস্ত্র” হিসেবে ব্যবহার করছে এবং জনসংখ্যাকে জোরপূর্বক স্থানান্তরে বাধ্য করছে। এই হামলা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে আরও উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে যখন ইসরাইলের মিত্ররা এই ধরনের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করছে।



































































































































































































































































































































































































































































































































































































































