এক শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে কেঁপে উঠেছে পশ্চিম তুরস্ক, এতে একাধিক ভবন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানির খবর না পাওয়া গেলেও, আতঙ্কের জেরে ২২ জন লোক আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় সোমবার রাত ১০টা ৪৮ মিনিট নাগাদ বালিকেসির প্রদেশের সিন্দিরগি শহরে আঘাত হানে এই ভূমিকম্প, যার রিখটার স্কেলে মাত্রা ৬.১। ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৫.৯৯ কিলোমিটার নিচে কেন্দ্রস্থল থাকায় বিস্তীর্ণ অঞ্চলে কম্পন অনুভূত হয়েছে।
তুরস্কের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এএফএডি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল সিন্দিরগি শহরে। এর ফলে ইস্তানবুল, বুরসা, মানিসা এবং ইজমির প্রদেশে একাধিক আফটারশক অনুভূত হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলি ইয়েরলিকায়া বলেছেন, কম্পনের জেরে সিন্দিরগিতে কমপক্ষে তিনটি খালি ভবন এবং একটি দোতলা বাড়ি ধসে পড়েছে। এই ভবনগুলো পূর্ববর্তী ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। তিনি জানান, আতঙ্কিত হয়ে পড়ে গিয়ে দুইজন আহত হয়েছেন, যাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বালিকেসিরের গভর্নর ইসমাইল উস্তাওগ্লু বলেছেন, মোট ২২ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে।
সিন্দিরগির জেলা প্রশাসক ডোগুকান কোয়ুনকু রাষ্ট্র পরিচালিত আনাদোলু এজেন্সিকে বলেছেন, “এখনও পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাইনি, তবে আমরা ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন চালিয়ে যাচ্ছি।” হ্যাবার্টর্ক টেলিভিশন জানিয়েছে, ভূমিকম্পের সঙ্গে সঙ্গে অনেক লোক বাড়িঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভবন কাঁপার সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়েছে।
এই অঞ্চলটি সাম্প্রতিক সময়ে ভূমিকম্পপ্রবণ। আগস্ট মাসে সিন্দিরগিতে ৬.১ মাত্রার ভূমিকম্প হয়, যাতে একজন নিহত এবং কয়েক ডজন আহত হন। তারপর থেকে ছোটখাটো আফটারশক চলছে। তুরস্ক প্রধান ফল্ট লাইনের উপর অবস্থিত বলে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়। সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল ২০২৩ সালের ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্প, যাতে দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্বাঞ্চলে ৫৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন।





































































































































































































































































































































































































































































































































































































































