হরমুজ প্রণালি-hormuz strait-newsedge24

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করতে প্রায় ৪০টি দেশের অংশগ্রহণে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। গতকাল শুক্রবার বিকেলে বৈঠকে একটি আন্তর্জাতিক টাস্কফোর্স গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয়। এই টাস্কফোর্সের লক্ষ্য হবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা।

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার পর প্রায় সাত সপ্তাহ ধরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ প্রায় বন্ধ রয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে নজিরবিহীন জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে।

পশ্চিমা দেশগুলোর নেতৃত্বাধীন এই বৈঠকে অংশ নেবে বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। তারা ইরানকে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখার আহ্বান জানাবে এবং শান্তি চুক্তির পর প্রণালিটি কীভাবে নিরাপদ রাখা যায়, সে বিষয়ে পরিকল্পনা করবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন জানানোর উদ্দেশ্যে বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। ইরান যুদ্ধে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ন্যাটো মিত্র এই দেশগুলোর সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প।

যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। বর্তমানে এটি ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সংঘাতের সময় উপসাগরীয় এলাকা থেকে যে অল্পসংখ্যক জাহাজ বেরিয়েছে, তাদের কাছ থেকে তেহরান এখন পারাপারের জন্য ফি নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় এই নিয়ন্ত্রণকে ইরান একটি কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।

এই সামুদ্রিক বাহিনী কীভাবে প্রণালিটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আলোচনায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলো জানিয়েছে, যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগে তারা কোনো নৌবাহিনী মোতায়েন করবে না এবং যেকোনো কার্যক্রম হবে সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক।

এই উদ্যোগে সমর্থন দেওয়া দেশগুলো এখনও হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে বৈশ্বিক ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। এ মাসের শুরুর দিকে বাহরাইনের প্রস্তাবিত একটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবে চীন ও রাশিয়া ভেটো দেয়।

এই সপ্তাহে পশ্চিমা দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত ইরানের বন্দর অবরোধে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। গত সপ্তাহান্তে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই অবরোধের ঘোষণা দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *