ডোনাল্ড ট্রাম্প-01014-NewsEdge24

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোকে হোয়াইট হাউসে প্রবেশের অনুমতি দিতে নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। সংবাদমাধ্যমগুলোর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে করা মামলার শুনানিতে মঙ্গলবার এ আদেশ দেন বিচারক টিম কেলি। মার্কিন বার্তাসংস্থা সিএনেনের প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।

বিচারক কেলি বলেছেন, সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রবেশাধিকার বাতিল করে ট্রাম্পের নেওয়া সিদ্ধান্ত সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী লঙ্ঘন করেছে। এ সংশোধনীতে বাকস্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষিত রয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়, সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন সম্পর্কে ট্রাম্পের নিজের বক্তব্য থেকেই বোঝা যায় যে তার অপছন্দের সংবাদ প্রকাশের কারণে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে তাদের ‘হার্ড পাস’ বা স্থায়ী অনুমতিপত্র বাতিল করা হয়ে থাকতে পারে।

বিচারক লেখেন, ট্রাম্প সম্ভবত মনে করেন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন সাধারণত ভুল এবং তার প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট। এ কারণেই তিনি তাদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। প্রশাসনের জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত যুক্তিও প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। বলেন, শুরু থেকেই জাতীয় নিরাপত্তার কারণে অনুমতিপত্র বাতিল করা হয়েছিল—এমন কোনো প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি। ট্রাম্পও কখনো সরাসরি বলেননি যে জাতীয় নিরাপত্তাই ছিল তার সিদ্ধান্তের কারণ।

নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর হোয়াইট হাউস থেকে পাঠানো চিঠিগুলো যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার ঘাটতি পূরণ করতে পারেনি বলেও আদালত মন্তব্য করেছে। এর আগে বিচারক কেলি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রবেশপত্র পুনরায় সক্রিয় করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তার যুক্তি ছিল, অনুমতিপত্র বাতিলের আগে যথাযথ নোটিশ ও নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়নি।

নতুন আদেশের ফলে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার বিষয়ে প্রশাসনের আপিলের পথ খুলে গেছে। এর আগে নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে দেওয়া আদেশের মেয়াদ মঙ্গলবার শেষ হওয়ার কথা ছিল। সংবাদমাধ্যমগুলোর আইনজীবী টেড বুট্রস রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করার মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও সংবিধানের প্রথম সংশোধনী স্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করেছেন। ট্রাম্প বারবার প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যে তার পছন্দ নয় এমন প্রতিবেদনকে শাস্তি দিতেই এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *