বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী মুহুরী নদীর বাংলাদেশ অংশে বাঁধ নির্মাণের সম্ভাব্য প্রভাব পর্যালোচনা করতে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরার সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, ত্রিপুরা গণপূর্ত বিভাগের সচিব কিরণ গিট্টের নেতৃত্বে এই দলটি গত রোববার (২০ এপ্রিল) দক্ষিণ ত্রিপুরার বেলোনিয়া সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছে। মুহুরী নদী ভারত ও বাংলাদেশকে পৃথক করা একটি আন্তঃসীমান্ত নদী, যা ত্রিপুরার লুশাই পাহাড় থেকে উৎপন্ন হয়ে বাংলাদেশের ফেনী জেলার পারশুরাম উপজেলা দিয়ে বঙ্গোপসাগরে মিশেছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের ফেনী জেলার কালিকাপুরে নির্মিত প্রায় ১.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ৮-৯ ফুট উঁচু একটি বাঁধের কারণে দক্ষিণ ত্রিপুরার বেলোনিয়ার উত্তর বেলোনিয়া, বল্লামুখ, ঈশান চন্দ্রনগরসহ আশপাশের গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রতিনিধি দলটি সীমান্তবর্তী এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি স্থানীয় গ্রামবাসী, বেলোনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এই পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন।
কিরণ গিট্টে জানান, বেলোনিয়া ও আশপাশের গ্রামগুলোকে বন্যার হাত থেকে রক্ষা করতে ভারত সরকার ইতিমধ্যে বাঁধ নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে। তিনি বলেন, “এই পদক্ষেপগুলো আরও জোরদার করা হবে। ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে সমস্ত মেরামত ও সংশ্লিষ্ট কাজ সম্পন্ন হবে, এবং কাজ ২৪ ঘণ্টা চলবে।” দক্ষিণ ত্রিপুরায় কাজের পরিমাণ বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত পাঁচজন প্রকৌশলী নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
২০২৪ সালের আগস্টে ত্রিপুরা ও বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের কারণে মুহুরী নদীসহ সীমান্তবর্তী নদীগুলোর বাঁধ এবং অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা বাংলাদেশের নতুন বাঁধ নির্মাণে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এনডিটিভি জানায়, বাংলাদেশের বাঁধ নির্মাণের ফলে বর্ষাকালে নদীর পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হতে পারে, যা বেলোনিয়া শহর এবং আশপাশের গ্রামগুলোতে বন্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বেলোনিয়া পৌরসভার বাসিন্দারা এই বাঁধ নির্মাণের বিষয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। উত্তর ত্রিপুরার উনাকোটি জেলার কৈলাশহরেও বাংলাদেশের অনুরূপ বাঁধ নির্মাণের কারণে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলো বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে।
ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা এই ইস্যুতে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তিনি উনাকোটি জেলায় বাংলাদেশের বাঁধ নির্মাণের সম্ভাব্য প্রভাব এবং ভারতীয় গ্রামগুলোর জন্য বন্যার ঝুঁকি তুলে ধরে ঢাকার সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনার জন্য অনুরোধ করেছেন।
বাংলাদেশের নতুন বাঁধের ফলে মুহুরী নদীর পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি হলে দক্ষিণ ত্রিপুরার ৫০০টির বেশি পরিবার বর্ষাকালে বন্যার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। স্থানীয় সিপিএম বিধায়ক দীপঙ্কর সেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। এছাড়া, বাংলাদেশের বাঁধ নির্মাণকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন উত্তেজনার কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে বাণিজ্য ও সীমান্ত ইস্যুতে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে।






































































































































































































































































































































































































































































































































































































































