জম্মু ও কাশ্মীরের পাহালগ্রামের বৈসরান উপত্যকায় মঙ্গলবার দুপুরে সন্ত্রাসী হামলায় একজন পর্যটক নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছেন। এনডিটিভি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈসরানের উঁচু তৃণভূমিতে গুলির শব্দ শোনা যায়। কর্তৃপক্ষের ধারণা, এটি একটি পরিকল্পিত হামলা। সন্ত্রাসীরা ছদ্মবেশে ছিল এবং পায়ে হেঁটে বা ঘোড়ায় চড়ে পৌঁছানো যায় এমন এলাকায় এই হামলা চালায়। পাহালগ্রামের মনোরম বন, স্বচ্ছ হ্রদ ও বিস্তৃত তৃণভূমি পর্যটকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়, বিশেষ করে এই পর্যটন মৌসুমে।
হামলাটি এমন সময়ে ঘটেছে যখন দেশজুড়ে অমরনাথ যাত্রার নিবন্ধন চলছে। আগামী ৩ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া ৩৮ দিনের এই তীর্থযাত্রা অনন্তনাগ জেলার ৪৮ কিলোমিটার পাহালগ্রাম রুট এবং গান্ডারবাল জেলার ১৪ কিলোমিটার বালটাল রুট দিয়ে পরিচালিত হবে। এই হামলা অমরনাথ যাত্রার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হামলার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। শাহ শীঘ্রই শ্রীনগরে পৌঁছে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য জরুরি বৈঠক করবেন। তিনি এক্স-এ পোস্ট করে বলেন, “এই জঘন্য হামলার সঙ্গে জড়িতদের ছাড়া হবে না, তাদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।” সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীর সফরে গিয়ে শাহ জম্মু অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদ নির্মূল ও সীমান্তে অনুপ্রবেশ রোধে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছিলেন।
পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির (পিডিপি) প্রধান মেহবুবা মুফতি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “এই সহিংসতা অগ্রহণযোগ্য। কাশ্মীর ঐতিহাসিকভাবে পর্যটকদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়ে এসেছে, তাই এই ঘটনা গভীর উদ্বেগের। হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনতে এবং নিরাপত্তার ত্রুটি পরীক্ষা করতে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত প্রয়োজন। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।”
জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ ঘটনাকে “জঘন্য” আখ্যা দিয়ে বলেন, “এই হামলাকারীরা অমানুষ, তাদের প্রতি তীব্র ঘৃণা। কোনো নিন্দাই যথেষ্ট নয়।” তিনি শ্রীনগরে ফিরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। নিহত পর্যটক কন্নাডা শিবমোগ্গার মঞ্জুনাথ বলে শনাক্ত হয়েছেন। আহতদের পাহালগ্রাম হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, তিনজন গুরুতর আহত শ্রীনগরে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরিত। নিরাপত্তা বাহিনী এলাকা ঘিরে ফেলেছে এবং হামলাকারীদের ধরতে তল্লাশি চালাচ্ছে।
লস্কর-ই-তৈয়বার সহযোগী সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। এই ঘটনা কাশ্মীরের পর্যটন শিল্প ও অমরনাথ যাত্রার নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।






































































































































































































































































































































































































































































































































































































































