যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কার ইয়েলসন এয়ার ফোর্স বেসে চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি একটি এফ-৩৫ লাইটনিং যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে হাইড্রোলিক লাইনে বরফ জমে যাওয়াকে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিমানটির পাইলট নিরাপদে ইজেক্ট করতে সক্ষম হলেও, প্রায় ১৯৬.৫ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই অত্যাধুনিক বিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। সম্প্রতি এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে বিমানটি ঘূর্ণি খেয়ে মাটিতে আছড়ে পড়তে দেখা যায়।
একটি তদন্ত প্রতিবেদনের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, বিমানটি উড্ডয়নের পর ল্যান্ডিং গিয়ারে সমস্যা দেখা দেয়। পাইলট ল্যান্ডিং গিয়ার ভাঁজ করার চেষ্টা করলে তা সম্পূর্ণরূপে কাজ করে না। আবার গিয়ার নামানোর সময় নোজ ল্যান্ডিং গিয়ার (এনএলজি) বাঁকা অবস্থায় আটকে যায়, প্রায় ১৭-২৫ ডিগ্রি বাম দিকে হেলে থাকে। এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতে গিয়ে বিমানের ফ্লাইট কন্ট্রোল সিস্টেম ভুলভাবে ধরে নেয় যে বিমানটি মাটিতে অবতরণ করেছে। এর ফলে বিমানটি “অন গ্রাউন্ড” মোডে চলে যায়, যা উড্ডয়নের সময় বিমানকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণহীন করে তোলে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনার মূল কারণ ছিল হাইড্রোলিক তরলে পানির মিশ্রণ, যা ঠান্ডা আবহাওয়ায় (-১.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা -১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বরফে পরিণত হয়। বিমানের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে দেখা গেছে, নোজ এবং প্রধান ল্যান্ডিং গিয়ারের হাইড্রোলিক সিস্টেমে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তরল ছিল পানি, যা সিস্টেমে কোনো পানি থাকার কথা নয়। এই বরফের কারণে গিয়ারের স্ট্রাটগুলো সঠিকভাবে কাজ করেনি, যা “ওয়েট-অন-হুইলস” (WoW) সেন্সরকে বিভ্রান্ত করে এবং বিমানকে ভুল সংকেত দেয়।
আরও পড়ুন: শিকাগোতে সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা ট্রাম্পের
দুর্ঘটনার আগে পাইলট প্রায় ৫০ মিনিট ধরে লকহিড মার্টিনের পাঁচজন প্রকৌশলী এবং ইয়েলসন বেসের ফ্লাইট সুপারভাইজরের সঙ্গে ফোনে আলোচনা করেন। তারা বিমানের গিয়ার সমস্যা সমাধানের জন্য দুটি টাচ-অ্যান্ড-গো ল্যান্ডিংয়ের পরামর্শ দেন। তবে, তদন্ত প্রতিবেদন জানায়, ২০২৪ সালের এপ্রিলে লকহিড মার্টিনের একটি রক্ষণাবেক্ষণ নিউজলেটারে ঠান্ডা আবহাওয়ায় এই ধরনের সমস্যার কথা উল্লেখ ছিল, যা উল্লেখ করলে পাইলটকে সম্ভবত সরাসরি ল্যান্ডিং বা নিয়ন্ত্রিত ইজেকশনের পরামর্শ দেওয়া হতো। দ্বিতীয় টাচ-অ্যান্ড-গো চেষ্টার সময় বিমানটি ৩০-৪০ ডিগ্রি উপরের দিকে এবং ৩৮ ডিগ্রি বামে হেলে যায়, যার ফলে পাইলট ইজেক্ট করতে বাধ্য হন।






































































































































































































































































































































































































































































































































































































































