ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল উৎপাদনের গতি এখন ইসরায়েলের জন্য সবচেয়ে বড় কৌশলগত হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা গত সপ্তাহে বন্ধদ্বার কনেসেট (ইসরায়েলি সংসদ) সেশনে আইনপ্রণেতাদের সতর্ক করে বলেছেন—ইরান এখন প্রতি মাসে শত শত নতুন ব্যালিস্টিক মিসাইল উৎপাদন করছে, যা ইসরায়েলের বর্তমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করছে।
আল-জাজিরা ও ইসরায়েলি দৈনিক মারিভ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন ইরানের মিসাইল উৎপাদন ক্ষমতা গত এক বছরে ৪-৫ গুণ বেড়েছে। নতুন প্রজন্মের সলিড-ফুয়েল মিসাইল (যেমন খাইবার-শেকান, ফাত্তাহ-১) এখন দ্রুত মোতায়েন করা যায় এবং ইসরায়েলের আয়রন ডোম, ডেভিড’স স্লিং ও অ্যারো-৩ সিস্টেমকে ফাঁকি দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ইরানের কাছে এখন ৩,০০০-এর বেশি ব্যালিস্টিক মিসাইল মজুত আছে, যার মধ্যে ৫০০+ ইসরায়েলের পুরো ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) মারিভকে বলেছেন: “ইরানের এই মিসাইল ক্ষমতা এখন একটি প্রকৃত প্রতিরোধক শক্তি (deterrent) হিসেবে কাজ করছে। এর ফলে ইসরায়েলের হাত বাঁধা পড়ে গেছে। আমরা যদি তেহরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের আক্রমণ চালাই, তাহলে তারা একযোগে শত শত মিসাইল ছুড়তে পারে—যা আমাদের বর্তমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সামলাতে পারবে না।”
অক্টোবরের শেষে ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর তেহরানের পাল্টা মিসাইল হামলায় ইসরায়েলের আয়রন ডোম কিছু মিসাইল আটকাতে ব্যর্থ হয়েছিল। এরপর থেকে তেল আবিবে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা (আইআরজিসি) জানিয়েছেন, তারা এখন “সম্পৃক্ত প্রতিরোধ” (integrated deterrence) কৌশল গ্রহণ করেছে—অর্থাৎ হিজবুল্লাহ, হুথি, হামাস ও ইরাকি মিলিশিয়াদের সঙ্গে সমন্বয় করে ইসরায়েলকে একাধিক ফ্রন্টে আক্রমণ করার সক্ষমতা তৈরি করেছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ গত সপ্তাহে বলেছেন, “ইরানের মিসাইল হুমকি এখন আমাদের অস্তিত্বের প্রশ্ন। আমরা যেকোনো মূল্যে এটি নস্যাৎ করব।” কিন্তু সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন—ইরানের উৎপাদন গতি এত দ্রুত যে, শুধু বিমান হামলায় তা পুরোপুরি ধ্বংস করা প্রায় অসম্ভব।
এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েল এখন তিনটি পথে হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (THAAD, SM-3) চাওয়া। ইরানের মিসাইল কারখানায় গোপন সাইবার ও সাবোটাজ অপারেশন বাড়ানো। সৌদি আরব ও অন্যান্য আরব দেশের সঙ্গে গোপন আলোচনা চালিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ চাপ তৈরি।
আরও পড়ুন: প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেতানিয়াহুর চিঠি, তেল আবিবে বিক্ষোভ
ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সাবেক প্রধান ইয়োসি কোহেন সম্প্রতি বলেছেন, “ইরানের এই মিসাইল শক্তি এখন ইসরায়েলের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি—এমনকি পারমাণবিক হুমকির চেয়েও বেশি। অঞ্চলের ভারসাম্য এখন ইরানের দিকে ঝুঁকে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।






































































































































































































































































































































































































































































































































































































































