১৬ এপ্রিল ২০২৫: ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কর্নাটকের বেঙ্গালুরুতে একটি ভাড়া ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছে ২৯ বছর বয়সী তরুণী মহালক্ষ্মীর টুকরো টুকরো করা দেহ। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তাকে প্রায় ১৫ দিন আগে খুন করে দেহটি প্রায় ৩০টি খণ্ডে বিভক্ত করা হয়েছে। ভ্যালিকাভাল থানার ভিরান্না ভাবনা এলাকায় মহালক্ষ্মী যে এককক্ষের ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন, সেখানকার ১৬৫ লিটারের ফ্রিজ থেকে এই দেহাংশ উদ্ধার করা হয়।
প্রতিবেশীরা ফ্ল্যাট থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ানোর কথা জানিয়ে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফ্রিজ খুলে মহালক্ষ্মীর দেহের টুকরো দেখতে পায়। তদন্তকারীদের অনুমান, হত্যাকাণ্ডটি চার থেকে পাঁচ দিন বা তারও বেশি সময় আগে সংঘটিত হয়েছে। মহালক্ষ্মী বিবাহিত ছিলেন এবং তার স্বামীর নাম হেমন্ত দাস। তবে দম্পতির সম্পর্কের বিষয়ে পুলিশ বিস্তারিত তদন্ত করছে, কারণ তারা গত নয় মাস ধরে আলাদা থাকছিলেন।
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, “মহালক্ষ্মী খুব কম কথা বলতেন। তিনি একাই এখানে থাকতেন। সকালে বেরিয়ে রাতে ফিরতেন। কিছুদিন আগে তার দাদা এখানে এসেছিলেন। তারপর তার মা ও বোন এলে তারা দুর্গন্ধ পান এবং ফ্রিজ খুলে এই ভয়াবহ দৃশ্য দেখেন।”
পুলিশ এখনও হত্যাকারীর পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি। তরুণীর ফ্ল্যাটে কারা যাতায়াত করতেন, তার ফোনের কল রেকর্ড এবং সম্পর্কের বিষয়ে তদন্ত চলছে। প্রশ্ন উঠছে, মহালক্ষ্মীকে জীবিত অবস্থায় টুকরো করা হয়েছে, নাকি হত্যার পর এই নৃশংস কাজ করা হয়েছে।
এই ঘটনা ২০২২ সালে দিল্লির শ্রদ্ধা ওয়ালকার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে উদ্বেগজনক মিল বহন করে। শ্রদ্ধাকে তার সঙ্গী আফতাব আমিন পুনাওয়ালা হত্যা করে দেহ ৩৫ টুকরো করে ফ্রিজে রেখেছিলেন এবং পরে দিল্লির বিভিন্ন স্থানে ফেলে দিয়েছিলেন। বেঙ্গালুরুর এই ঘটনায়ও পুলিশ সন্দেহ করছে, হত্যাকারী সম্ভবত শ্রদ্ধার ঘটনা থেকে ‘অনুপ্রাণিত’ হয়ে থাকতে পারে।
বেঙ্গালুরু পুলিশের কমিশনার বি. দয়ানন্দ জানিয়েছেন, “আমরা সব দিক থেকে তদন্ত করছি। প্রধান সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে, তবে তাকে এখনও গ্রেপ্তার করা যায়নি।” কর্নাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জি. পরমেশ্বর বলেছেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তি পশ্চিমবঙ্গে আত্মগোপন করেছে এবং তাকে ধরতে ছয়টি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে।
জাতীয় মহিলা কমিশন (এনসিডব্লিউ) এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে পুলিশকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও তিন দিনের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। মহালক্ষ্মীর পরিবার ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে।






































































































































































































































































































































































































































































































































































































































