ইসরাইলের নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রিসভা গাজা উপত্যকা দখল ও দীর্ঘমেয়াদে নিয়ন্ত্রণে রাখার একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। এই পরিকল্পনার মধ্যে হামাসের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বৃদ্ধি এবং গাজার ২১ লাখ ফিলিস্তিনিকে দক্ষিণে সরিয়ে নেয়ার প্রস্তাব রয়েছে, যা সেখানকার মানবিক সংকটকে আরও প্রকট করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইসরাইলি এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন, এবং খবরটি প্রকাশ করেছে বিবিসি।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই পরিকল্পনাকে ‘ভালো পরিকল্পনা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, এটি হামাসকে নির্মূল করা এবং জিম্মিদের ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে। মন্ত্রিসভা নীতিগতভাবে বেসরকারি কোম্পানির মাধ্যমে মানবিক সহায়তা সরবরাহ ও বিতরণের একটি পরিকল্পনাও অনুমোদন করেছে। গত দুই মাস ধরে ইসরাইলের অবরোধের কারণে গাজায় তীব্র খাদ্যসংকট সৃষ্টি হয়েছে, এবং এই পরিকল্পনা সেই সংকট কমানোর জন্য নেয়া হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বলেছে, এটি মৌলিক মানবিক নীতির লঙ্ঘন। তারা এতে সহযোগিতা করবে না বলে জানিয়েছে। হামাস এই প্রস্তাবকে ‘রাজনৈতিক ব্ল্যাকমেইল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
প্রসঙ্গত,২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও, ১৮ মার্চ তা ভেঙে ইসরাইল আবারও ব্যাপক হামলা শুরু করে। গত সোমবার (৫ মে) গাজার উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, উত্তর গাজায় ইসরাইলি বিমান হামলায় কমপক্ষে ১৯ জন নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় মৃত্যুর সংখ্যা ৫২,৫০০ ছাড়িয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার ৯০% জনগণ বর্তমানে বাস্তুচ্যুত, এবং খাদ্য, ওষুধ ও জ্বালানির তীব্র সংকটে ভুগছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ইসরাইল আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে গাজার জনগণের জন্য সহায়তা নিশ্চিত করতে বাধ্য। কিন্তু ইসরাইল দাবি করছে, তারা আইন মেনে চলছে এবং সহায়তার কোনো ঘাটতি নেই। এই পরিস্থিতি গাজার ভবিষ্যৎ ও ফিলিস্তিনিদের জন্য গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।






































































































































































































































































































































































































































































































































































































































