গত ২২ এপ্রিল পহেলগামে ২৬ জনের প্রাণহানির পর থেকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুর’ এবং পাকিস্তানের ‘অপারেশন বানিয়ান মারসুস’ উভয় দেশের সামরিক কৌশল ও পররাষ্ট্রনীতির নতুন মাত্রা উন্মোচন করেছে। ভারতের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ, বিশেষ করে পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীর ও পাঞ্জাবে সরাসরি হামলা, দেশটির ঐতিহ্যগত কূটনৈতিক সংযম থেকে সরে এসে মার্কিন ও ইসরায়েলি ধাঁচের প্রতিশোধমূলক কৌশল গ্রহণের ইঙ্গিত দেয়।
জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হ্যাপিমন জেকবের মতে, ভারতের এই নীতি পরিবর্তন ২০১৬ সালের উরি ও ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পর থেকে গড়ে উঠেছে। তিনি বলেন, “পাকিস্তান যখন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মাধ্যমে হামলা চালায়, ভারত এখন সেনাবাহিনী ব্যবহার করে প্রচলিত পদ্ধতিতে জবাব দিচ্ছে।” এই কৌশলের উদ্দেশ্য পাকিস্তানকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া যে, সন্ত্রাসী হামলার জবাবে ভারত নীরব থাকবে না।
তবে, এই নতুন কৌশলের ঝুঁকিও কম নয়। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) ২০২৪ সালের প্রতিবেদন অনুসারে, ভারতের কাছে ১৭২টি এবং পাকিস্তানের কাছে ১৭০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে। পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রের আশঙ্কা পূর্বে ভারতকে সংযত রাখলেও, বর্তমানে ভারত মনে করে যে, প্রচলিত যুদ্ধে তারা সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী। অধ্যাপক জেকবের মতে, পাকিস্তান প্রচলিত যুদ্ধে দুর্বল হলে পরমাণু অস্ত্রের দিকে ঝুঁকতে পারে, যা অঞ্চলটিকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিতে পারে।
ভারতের এই কৌশল আন্তর্জাতিক মঞ্চে সমর্থন পেলেও, তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা উপেক্ষা করা এবং সরাসরি হামলার নীতি উভয় দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াচ্ছে। পাকিস্তান লস্কর-ই-তৈয়বার সঙ্গে যোগাযোগ অস্বীকার করলেও, ভারত দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ)-এর মাধ্যমে পাকিস্তানের জড়িত থাকার প্রমাণ হাজির করেছে। তবে, পাকিস্তানের প্রতিহামলা এবং বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ পরিস্থিতিকে জটিল করছে।
ভারতের নতুন কৌশল অঞ্চলটিতে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান প্রকাশ করলেও, এটি পারমাণবিক শক্তিধর দুই প্রতিবেশীর মধ্যে বিপজ্জনক উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র, শান্তি ও সংযমের আহ্বান জানালেও, তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা উপেক্ষার প্রবণতা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য এই উত্তেজনা অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। উভয় দেশের সংযম এবং কূটনৈতিক সংলাপই এখন অঞ্চলটির স্থিতিশীলতার জন্য জরুরি।



























































































































































































































































































































































































































































































































































































































































