চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা না দেওয়ার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। এর ফলে আজ রোববার সকাল ৮টা থেকে বন্দরের সকল অপারেশনাল কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়েছে।
ধর্মঘটের কারণে বন্দরের বিভিন্ন জেটিতে পণ্য ও কনটেইনার ওঠানামা, খালাস, লোডিং-আনলোডিং এবং পণ্য ডেলিভারি কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। বহির্নোঙর (আউটার অ্যাঙ্করেজ) এবং ইয়ার্ড-টার্মিনাল অঞ্চলেও কোনো কাজ হচ্ছে না। বন্দর ভবনের সামনে ৪ নম্বর গেটে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সকাল থেকে বন্দরের ভেতরে কোনো ট্রেলার বা পণ্য পরিবহনের যানবাহন প্রবেশ করেনি।
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক মো. ইব্রাহীম খোকন বলেন, “সকাল থেকেই আমাদের ধর্মঘট চলছে। কোথাও কোনো কাজ হচ্ছে না। শ্রমিক-কর্মচারীরা শতভাগ সমর্থন দিয়ে কাজে যোগ দেননি।” তিনি অভিযোগ করে বলেন, আন্দোলন দমাতে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভিন্ন পথ অবলম্বন করছে। সংগ্রাম পরিষদের দুজন নেতা—শামসু মিয়া ও আবুল কালাম আজাদকে তুলে নেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (বন্দর) মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, “বন্দরের নিরাপত্তার বিষয়ে আমরা সতর্ক রয়েছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন আছে।”
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রায় ২০০ সাধারণ কর্মচারী ও শ্রমিককে আজ সকাল সাড়ে ৯টায় বন্দর ভবনের সম্মেলন কক্ষে জরুরি সভায় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। তবে আন্দোলনকারীরা এই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এনসিটি পরিচালনার ভার ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে কর্মবিরতির ডাক দেয় বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। পরে তারা বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে আন্দোলন চালিয়ে যায়। গত মঙ্গলবার থেকে লাগাতার কর্মবিরতি শুরু হয়। গত বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন বন্দরে এসে শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর সংগ্রাম পরিষদ দুই দিনের জন্য কর্মবিরতি স্থগিত করে। কিন্তু গতকাল শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে আজ সকাল ৮টা থেকে লাগাতার ধর্মঘটের ঘোষণা দেয়।
দাবিসমূহ:
- এনসিটি ইজারা না দেওয়া
- বন্দর চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানকে প্রত্যাহার
- আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল
- শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে মামলাসহ সব ধরনের আইনি হয়রানি বন্ধ
ধর্মঘটের কারণে চট্টগ্রাম বন্দর কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এতে আমদানি-রপ্তানি খাতে ব্যাপক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।






















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































