ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের ক্ষেত্রে কোন দেশ কার পাশে দাঁড়াতে পারে-newsedge24

কাশ্মীরের পেহেলগামে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার (২৬ জন নিহত) পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে। ভারত পাকিস্তানকে এই হামলার জন্য দায়ী করলেও পাকিস্তান তা অস্বীকার করেছে। এই পরিস্থিতিতে যদি দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ বাধে, তবে কোন দেশ কার পাশে দাঁড়াতে পারে, তা নিয়ে বিশ্লেষণ চলছে।

ভারতের সম্ভাব্য সমর্থক

ভারতের অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি এবং বৈশ্বিক প্রভাবের কারণে বেশ কয়েকটি দেশ তাদের পক্ষে দাঁড়াতে পারে:

  • যুক্তরাষ্ট্র: কোয়াড জোট এবং চীনের প্রভাব মোকাবিলায় ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অংশীদারিত্ব রয়েছে। তারা কূটনৈতিক ও সম্ভবত সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের মাধ্যমে ভারতকে সমর্থন দিতে পারে।
  • রাশিয়া: ভারতের দীর্ঘদিনের মিত্র রাশিয়া অস্ত্র সরবরাহ ও কূটনৈতিক সমর্থন দিতে পারে, যদিও পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের সাম্প্রতিক সম্পর্ক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
  • ইসরায়েল: ভারতের সঙ্গে ইসরায়েলের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা সহযোগিতা রয়েছে। তারা উন্নত প্রযুক্তি ও অস্ত্র সরবরাহ করতে পারে।
  • ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য: এই দেশগুলো ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখে এবং কূটনৈতিক সমর্থন দিতে পারে।
  • জাপান ও অস্ট্রেলিয়া: কোয়াডের সদস্য হিসেবে তারা ভারতকে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে সমর্থন করতে পারে।

পাকিস্তানের সম্ভাব্য সমর্থক

পাকিস্তানের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান এবং কিছু দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাদের সমর্থন আকর্ষণ করতে পারে:

  • চীন: চীন পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র। চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (CPEC) এবং সামরিক সহযোগিতার কারণে চীন অস্ত্র, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন দিতে পারে।
  • তুরস্ক: ধর্মীয় ও সামরিক সম্পর্কের কারণে তুরস্ক পাকিস্তানকে কূটনৈতিকভাবে এবং সম্ভবত অস্ত্র সরবরাহের মাধ্যমে সমর্থন দিতে পারে।
  • ইরান: পাকিস্তানের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক উন্নত হচ্ছে। সীমান্তে সৈন্য মোতায়েনের পরিকল্পনা পাকিস্তানের পক্ষে পরোক্ষ সমর্থন হতে পারে।
  • সৌদি আরব: অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় সম্পর্কের কারণে সৌদি আরব কূটনৈতিকভাবে পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নিতে পারে।

নিরপেক্ষ বা মধ্যস্থতাকারী

  • জাতিসংঘ: অতীতে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে জাতিসংঘ মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেছে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে পারে।
  • রাশিয়া: ভারতের মিত্র হলেও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখায় রাশিয়া উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করতে পারে।
  • কাতার ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশ: এই দেশগুলো মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করতে পারে।

পেহেলগাম হামলার পর ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সার্ক ভিসা বাতিল, ইন্দুস জল চুক্তি স্থগিত এবং বাণিজ্য বন্ধের মতো কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। পাকিস্তানও পাল্টা বাণিজ্য স্থগিত ও আকাশসীমা বন্ধ করেছে। দুই দেশের পারমাণবিক শক্তির কারণে যুদ্ধের সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ভারতের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইসরায়েলের মতো শক্তিশালী মিত্রদের সমর্থন সম্ভব, যেখানে পাকিস্তান চীন ও তুরস্কের সমর্থন পেতে পারে। তবে, বেশিরভাগ দেশ সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ এড়িয়ে কূটনৈতিক সমাধানের দিকে মনোযোগ দেবে। জাতিসংঘ ও নিরপেক্ষ দেশগুলো শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *