ট্রাম্পের কাশ্মীর মধ্যস্থতা প্রস্তাব-newsedge24

র্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাশ্মীর সংকটে মধ্যস্থতার প্রস্তাব ভারতের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে দিল্লিকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। গত শনিবার (১০ মে ২০২৫) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ভারত ও পাকিস্তান চার দিনের সীমান্ত উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। পরবর্তী এক পোস্টে তিনি কাশ্মীর সংকট সমাধানে উভয় দেশের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এই প্রস্তাবে পাকিস্তান স্বাগত জানালেও ভারত এটিকে প্রত্যাখ্যান করেছে, যা দুই দেশের বিপরীতমুখী অবস্থানকে স্পষ্ট করে।

ভারত কাশ্মীরকে নিজেদের ‘অবিচ্ছেদ্য অংশ’ হিসেবে বিবেচনা করে এবং তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতার বিরোধিতা করে আসছে। ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শ্যাম শরণ বিবিসিকে বলেন, “এই প্রস্তাব ভারতের বহু বছরের অবস্থানের পরিপন্থী।” ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে, কাশ্মীর একটি দ্বিপাক্ষিক ইস্যু এবং তৃতীয় পক্ষের কোনো ভূমিকা গ্রহণযোগ্য নয়। ভারতীয় কংগ্রেস দল এই প্রস্তাবকে কাশ্মীর ইস্যুকে ‘আন্তর্জাতিকীকরণের প্রচেষ্টা’ হিসেবে সমালোচনা করেছে।

অন্যদিকে, পাকিস্তান ট্রাম্পের প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, “জম্মু ও কাশ্মীর সংকট সমাধানে ট্রাম্পের আগ্রহকে আমরা স্বাগত জানাই। এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা, যার প্রভাব বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়তে পারে।” পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ প্রকাশ্যে ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

কাশ্মীর সংকটের উৎপত্তি ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান বিভক্তির সময় থেকে। দুই দেশই কাশ্মীরের পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রণ দাবি করে এবং এ নিয়ে ১৯৪৭, ১৯৬৫ ও ১৯৯৯ সালে যুদ্ধে জড়িয়েছে। সম্প্রতি ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে ২২ এপ্রিল ২০২৫-এ এক সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর উত্তেজনা নতুন করে বেড়েছে। ভারত এই হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করলেও, পাকিস্তান অভিযোগ অস্বীকার করে আন্তর্জাতিক তদন্ত দাবি করেছে। এই ঘটনার পর উভয় দেশ সীমান্তে সামরিক শক্তি প্রদর্শন করে, যা পারমাণবিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছিল।

ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি অর্জিত হলেও ভারত এই প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার কথা স্বীকার করেনি। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার এই ইস্যুতে ‘পুনরায় হাইফেনেশন’ (ভারত-পাকিস্তানকে একই সারিতে দেখা) এড়াতে চায়, যা ট্রাম্পের প্রস্তাবের কারণে জটিল হয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই উদ্যোগ কাশ্মীর ইস্যুকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পুনরায় উত্থাপন করেছে, যা ভারতের কৌশলগত অবস্থানের জন্য চ্যালেঞ্জ।

ট্রাম্পের পূর্ববর্তী মেয়াদেও তিনি কাশ্মীরে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু ভারত তা প্রত্যাখ্যান করেছিল। বর্তমানে ভারতের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকলেও পাকিস্তানের সমর্থন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকা পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। ভারতীয় কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ বলেছেন, “কাশ্মীর কোনো সহস্র বছরের ধর্মীয় সংঘাত নয়, এটি একটি আঞ্চলিক ইস্যু।”

এই পরিস্থিতিতে ভারতের কঠোর অবস্থান এবং পাকিস্তানের উন্মুক্ত সমর্থন কাশ্মীর ইস্যুতে কূটনৈতিক সমাধানকে আরও জটিল করে তুলছে। ট্রাম্পের প্রস্তাব দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যা আগামী দিনে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *