ভারতে ফার্মাসিউটিক্যাল কারখানায় বিস্ফোরণ, ৩৬ জনের মৃত্যু-newsedge24

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের পাশামাইলারাম শিল্প এলাকায় অবস্থিত সিগাচি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ফার্মাসিউটিক্যাল কারখানায় সোমবার (৩০ জুন ২০২৫) সকালে একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৬-এ পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩৬ জন শ্রমিক, যাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিস্ফোরণটি কারখানার স্প্রে ড্রাইয়ার ইউনিটে সংঘটিত হয়, যেখানে মাইক্রোক্রিস্টালিন সেলুলোজ (এমসিসি) উৎপাদনের জন্য কাঁচামালকে সূক্ষ্ম গুঁড়ায় রূপান্তর করা হয়।

তেলেঙ্গানার ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক জি ভি নারায়ণ রাও জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের ফলে কারখানার গোটা ভবন ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩৪টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজন মারা গেছেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কারের কাজ চলছে, কারণ আরও শ্রমিক আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা পি প্রবিন্য জানান, ২৫টি মৃতদেহের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি। মৃতদেহগুলো এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত ও পুড়ে গেছে যে, পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ টেস্টের জন্য বিশেষ মেডিকেল টিম মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, বিস্ফোরণের সময় কারখানায় কমপক্ষে ১৪০ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের শব্দ কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও শোনা গেছে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, স্প্রে ড্রাইয়ারে চাপ বৃদ্ধি এবং সূক্ষ্ম রাসায়নিক ধূলিকণার কারণে বিস্ফোরণটি তীব্র হয়েছে। ত ইন্জিনিয়ারিং ত্রুটি বা নিরাপত্তা মানের ঘাটতি এর পেছনে কাজ করতে পারে। তবে, তেলেঙ্গানার শ্রমমন্ত্রী জি বিবেক ভেঙ্কটস্বামী জানিয়েছেন, এটি কোনো রিঅ্যাক্টর বিস্ফোরণ নয়, বরং এয়ার ড্রাইয়ার সিস্টেমে সমস্যার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এ রেভান্থ রেড্ডি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছেন। এই কমিটির সদস্যরা হলেন মুখ্য সচিব, বিশেষ মুখ্য সচিব (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা), প্রধান সচিব (শ্রম), প্রধান সচিব (স্বাস্থ্য) এবং অতিরিক্ত ডিজিপি (ফায়ার সার্ভিস)। কমিটির দায়িত্ব হলো দুর্ঘটনার কারণ চিহ্নিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে সুপারিশ প্রদান করা।

মুখ্যমন্ত্রী নিহত শ্রমিকদের পরিবারের জন্য ১ কোটি টাকা এবং গুরুতর আহতদের জন্য ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন। এছাড়া, তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে নিহতদের পরিবারকে ১ লাখ টাকা এবং আহতদের ৫০,০০০ টাকা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে নিহতদের পরিবারের জন্য ২ লাখ টাকা এবং আহতদের জন্য ৫০,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন।

এই দুর্ঘটনা ভারতের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে নিরাপত্তা মান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ভারত বিশ্বের বৃহত্তম জেনেরিক ওষুধ ও টিকা সরবরাহকারী দেশ হিসেবে পরিচিত হলেও, অপর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নিয়ন্ত্রণের অভাবে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে। গত বছর তামিলনাড়ুর একটি ফায়ারক্র্যাকার কারখানায় এবং আন্ধ্রপ্রদেশের একটি ফার্মাসিউটিক্যাল কারখানায় অনুরূপ দুর্ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।

সিগাচি ইন্ডাস্ট্রিজ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের ফলে কারখানার মূল উৎপাদন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এবং এটি পুনরুদ্ধারে প্রায় ৯০ দিন উৎপাদন বন্ধ থাকবে। কারখানাটি মাইক্রোক্রিস্টালিন সেলুলোজ (এমসিসি) উৎপাদন করে, যা ওষুধ, প্রসাধনী এবং খাদ্য শিল্পে ব্যবহৃত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *