Snake-সাপ-newsedge24

মুম্বাইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমস কর্মকর্তারা থাইল্যান্ড থেকে আগত এক যাত্রীর কাছ থেকে ১৬টি সাপ জব্দ করেছে। এটি জুন মাসে তৃতীয়বারের মতো বন্যপ্রাণী পাচারের চেষ্টা বানচালের ঘটনা। গত শুক্রবার (২৭ জুন) রাতে ফ্লাইট ৬ই১০৫২-এ ব্যাংকক থেকে আগত ৩৪ বছর বয়সী চেন্নাইয়ের বাসিন্দা গুডম্যান লিনফোর্ড লিও নামে ওই যাত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার লাগেজে চকলেটের বাক্স ও পুরনো কাপড়ের মধ্যে ১৫টি তুলার ব্যাগে লুকানো ছিল সাপগুলো।

জব্দকৃত সাপের মধ্যে ছিল দুটি কেনিয়ান স্যান্ড বোয়া, পাঁচটি রাইনোসেরাস র‍্যাট স্নেক, তিনটি অ্যালবিনো স্নেক, দুটি হন্ডুরান মিল্ক স্নেক, একটি ক্যালিফোর্নিয়া কিং স্নেক, দুটি গার্টার স্নেক এবং অ্যালবিনো র‍্যাট স্নেক। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সাপগুলোর অধিকাংশই অবিষাক্ত বা মানুষের জন্য হালকা বিষাক্ত, তবে এগুলো আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ চুক্তি (CITES) এর অ্যাপেন্ডিক্স II এবং ভারতের বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইন, ১৯৭২-এর সিডিউল IV-এর আওতায় সুরক্ষিত। অভিযুক্তকে কাস্টমস আইন, ১৯৬২-এর অধীনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, গুডম্যান লিও একটি আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত। তিনি স্বীকার করেছেন, এই সাপগুলো ধূসর বাজারে বিক্রির জন্য আনা হয়েছিল, যার মূল্য কয়েক লাখ রুপি হতে পারত। রেসকিঙ্ক অ্যাসোসিয়েশন ফর ওয়াইল্ডলাইফ ওয়েলফেয়ার (RAWW)-এর বিশেষজ্ঞরা সাপগুলো শনাক্ত ও নিরাপদে হ্যান্ডলিংয়ে সহায়তা করেছেন। বিমানবন্দরের কাস্টমস বিভাগ বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ব্যুরো (WCCB) এবং মহারাষ্ট্র বন বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে সাপগুলোকে থাইল্যান্ডে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

পাচারের প্রবণতা নিয়ে বন্যপ্রাণী বাণিজ্য পর্যবেক্ষক সংস্থা ট্রাফিক জানিয়েছে, গত সাড়ে তিন বছরে থাইল্যান্ড-ভারত বিমান রুটে ৭,০০০-এর বেশি জীবিত ও মৃত প্রাণী জব্দ করা হয়েছে। সংস্থাটি বহিরাগত পোষা প্রাণীর চাহিদার কারণে এই “উদ্বেগজনক প্রবণতা”র কথা উল্লেখ করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *