সাফিনা আহমেদ তরী-newsedge4

সাবেক টেলিভিশন সংবাদ পাঠিকা ও ব্র্যাক ব্যাংকের কর্মকর্তা সাফিনা আহমেদ তরীর (৩০) রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে তদন্ত চলছে। রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের নিজ বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধারের পর মৃত্যুর কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ এখনো কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি, তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে তদন্তকারী দল।

৮ জুন রোববার বিকেলে তরীকে অচেতন অবস্থায় মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে হাতিরঝিল থানা পুলিশ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। মুগদা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে বিষয়টি জানালেও পরিবার প্রাথমিকভাবে কিছু জানায়নি। সুরতহালে মরদেহের নাক থেকে সাদা ফেনা পাওয়া গেছে, যা ‘অস্বাভাবিক’ মৃত্যুর ইঙ্গিত দেয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে তরী চ্যানেল ২৪ এবং আরটিভিতে সংবাদ পাঠ করতেন। সম্প্রতি তিনি ব্র্যাক ব্যাংকে পুরোপুরি মনোযোগ দিয়েছিলেন। তরীর বাবা-মা দীর্ঘদিন ধরে আলাদা থাকেন। বাবার তিনটি বিয়ের মধ্যে তরীর মা বড়। তিনি মা ও এক বোনকে নিয়ে নিউ ইস্কাটনের ২১ নম্বর বাসার বি-৬ ফ্ল্যাটে থাকতেন। পারিবারিক দায়িত্ব ও খরচের চাপ তরীর ওপর ছিল। পুলিশের ধারণা, মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে তিনি অ্যালকোহল ও সম্ভবত অন্যান্য মাদকদ্রব্য সেবন করতেন।

হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রাজু বলেন, “তরী নিয়মিত অ্যালকোহল সেবন করতেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন বা বিষাক্ত পদার্থ গ্রহণের কারণে তার মৃত্যু হতে পারে। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ছাড়া নিশ্চিত কিছু বলা সম্ভব নয়।” তিনি আরও জানান, ২০১৭ সালে তরীর একটি বিয়ে হয়েছিল, এবং তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও তদন্ত চলছে।

তরীর মা পুলিশকে জানিয়েছেন, ঈদের দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় তরী স্বাভাবিকভাবে বাসায় ফিরেছিলেন। রাতে নিজের রুমে ঘুমান। পরের দিন দুপুর ১২টা পর্যন্ত সাড়া না পেয়ে তার মা তাকে অচেতন ও নাক-মুখে ফেনাসহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরিবারের দাবি, তরী আত্মহত্যা করতে পারেন না, এবং তারা এই মৃত্যুর পেছনে অন্য কারণ সন্দেহ করছেন।

ঢামেক ফরেনসিক বিভাগ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে, তবে বিস্তারিত রিপোর্ট পেতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে। এই রিপোর্টে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ—স্বাভাবিক মৃত্যু, আত্মহত্যা, নাকি হত্যা—নিশ্চিত হওয়া যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *