বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক-newsedge24

ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে পুলিশের কঠোর নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করা হয়। গত ২৪ জুলাই ২০২৫, বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছানাউল্লাহর আদালতে শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এই মামলায় তিনি ৪৪ নম্বর আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার হন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) জানায়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্রদল, যুবদল ও কৃষক দলের শান্তিপূর্ণ মিছিলে গুলি চালানো হয়। এতে মো. আলাউদ্দিনের ছেলে আব্দুল কাইয়ুম আহাদসহ কয়েকজন নিহত ও অনেকে আহত হন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার ইন্সপেক্টর খালেদ হাসান অভিযোগ করেন, খায়রুল হকের সংশ্লিষ্টতার পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলায় ৪৬৭ জনের নাম উল্লেখসহ ১,০০০ থেকে ২,০০০ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।

খায়রুল হকের বিরুদ্ধে প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দুর্নীতি ও জালিয়াতির মাধ্যমে রায় প্রদানের অভিযোগ রয়েছে। নারায়ণগঞ্জের বন্দর ও ফতুল্লা থানায় দায়েরকৃত দুটি মামলায় তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতা, প্রতারণা, জালিয়াতি এবং বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে তদন্ত চলছে। এছাড়া, শাহবাগ থানায় আরেকটি মামলায় তিনি দুর্নীতিমূলক ও জাল রায় প্রদানের অভিযোগে তদন্তাধীন। এই অভিযোগগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায়, যা সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

আরও পড়ুন: বিচারপতি খায়রুল হক রাজনৈতিক সংকটের জন্য দায়ী: মির্জা ফখরুল

ডিবি পুলিশ আদালতে লিখিত আবেদনে জানায়, খায়রুল হক প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় জামিনে মুক্তি পেলে তদন্তে প্রভাব ফেলতে পারেন এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারেন। এজন্য তাকে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার অনুরোধ করা হয়। শুনানিতে কোনো প্রতিরক্ষা আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। নিরাপত্তার কারণে তাকে দিনভর আদালতে হাজির করা হয়নি; রাত ৮:১৫-এ কঠোর নিরাপত্তায় আদালতে নেওয়া হয়। শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এবিএম খায়রুল হক ২০১০ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালে তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় দেন, যা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ব্যাপক প্রভাব ফেলে। অবসরের পর তিনি ২০১৩ সালে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন এবং ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট পদত্যাগ করেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *