রাজশাহীর পবায়-newsedge24

রাজশাহীর পবা উপজেলার বামুনশিকড় এলাকায় একই পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার (১৫ আগস্ট ২০২৫) সকাল ৯টার দিকে তাদের নিজ বাড়ি থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন মিনারুল ইসলাম (৩০), তার স্ত্রী সাধিনা বেগম (২৮), ছেলে মাহিম (১৩) এবং মেয়ে মিথিলা (১৮ মাস)। মাহিম খড়খড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

রাজশাহীর মতিহার থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) কালাম পারভেজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিনারুল ইসলাম কৃষিকাজ করতেন এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঋণের বোঝায় জর্জরিত ছিলেন। মরদেহের পাশে একটি হাতে লেখা চিরকুট পাওয়া গেছে, যাতে ঋণ ও খাদ্যাভাবের কারণে পরিবারের এই পরিণতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

চিরকুটে লেখা ছিল:

“আমি নিজ হাতে সবাইকে মারলাম। এই কারণে যে, আমি যদি মরে যাই, তাহলে আমার ছেলে-মেয়ে কার আশায় বেঁচে থাকবে। কষ্ট আর দুঃখ ছাড়া কিছুই পাবে না। আমরা মরে গেলাম ঋণের জন্য আর খাওয়ার অভাবে। তাই আমরা বেঁচে থাকার চেয়ে মরে গেলাম সেই ভালো। কারো কাছে কিছুই চাইতে হবে না। আমার জন্য কাউকে কারো কাছে ছোট হতে হবে না। আমার জন্য আমার বাবা অনেক লোকের কাছে ছোট হয়েছে। আর হতে হবে না। চিরদিনের জন্য চলে গেলাম। আমি চাই সবাই ভালো থাকবেন। ধন্যবাদ।”

পুলিশ জানায়, উত্তরের কক্ষে সাধিনা বেগম ও মিথিলার মরদেহ মেঝেতে এবং দক্ষিণের কক্ষে মিনারুল ও মাহিমের মরদেহ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু: স্বামীর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) গাজিউর রহমান বলেন, “ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। চিরকুটটি প্রাথমিকভাবে মিনারুলের লেখা বলে মনে হচ্ছে, তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এটি সুস্পষ্টভাবে নিশ্চিত করা যাবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *