সাবেক আইজিপি মামুন-newsedge24

সাবেক পুআইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমি জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলাম, আমি দায়ী।” এই স্বীকারোক্তির পাশাপাশি তিনি এই মামলায় রাজসাক্ষী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ দিয়েছে। এই তিন আসামির বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে হত্যার নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা, ১,৪০০ জনের হত্যাকাণ্ড এবং “উচ্চ কমান্ড দায়িত্ব” ও “যৌথ অপরাধী উদ্যোগ”।

মামলার শুনানিতে প্রধান প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে, যারা বর্তমানে ভারতে পলাতক রয়েছেন। তবে, চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন বর্তমানে কারাগারে আটক রয়েছেন এবং তিনি এই মামলায় রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। ট্রাইব্যুনাল আগামী ৩ আগস্ট প্রসিকিউশনের উদ্বোধনী বক্তব্য এবং ৪ আগস্ট সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন নির্ধারণ করেছে।

প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়, জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান দমনে শেখ হাসিনার নির্দেশে মারাত্মক অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল, যার ফলে ৭০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়। এই অভিযোগে শেখ হাসিনাকে “মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মামুনের আইনজীবী জায়েদ বিন আমজাদ তাঁর মক্কেলের নিরাপত্তার জন্য আলাদা স্থানে রাখার আবেদন জানিয়েছেন, এবং ট্রাইব্যুনাল এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

এই মামলার শুনানি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচার করেছে। এছাড়া, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে একটি তাঁর ১৫ বছরের শাসনামলে হত্যা ও জোরপূর্বক গুমের অভিযোগ এবং অপরটি হেফাজতে ইসলামের শাপলা চত্বরের সমাবেশে হত্যার অভিযোগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *