রাজধানীর পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের (মিটফোর্ড) সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী মো. সোহাগ ওরফে লাল চাঁদ (৩৯) নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এজাহারনামীয় দুই আসামি—আলমগীর (২৮) ও মনির লম্বা মনির (৩২)—কে গ্রেপ্তার করেছে। ৯ জুলাই ২০২৫ সন্ধ্যায় মিটফোর্ড হাসপাতালের তিন নম্বর গেটের সামনে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। শনিবার (১২ জুলাই ২০২৫) কাওরানবাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান এ তথ্য জানান।
র্যাব জানিয়েছে, নিহতের বড় বোন বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যাতে ১৯ জনের নাম উল্লেখ এবং ১০-১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। শুক্রবার কেরানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে আলমগীর ও মনিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) মাহমুদুল হাসান মহিন (৪১) ও তারেক রহমান রবিন (২২) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করে, যাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার হয়। এছাড়া আরও একজন গ্রেপ্তার হয়, ফলে মোট পাঁচজন আটক হয়েছেন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সোহাগ রজনী ঘোষ লেনে ‘মেসার্স সোহানা মেটাল’ নামে ভাঙারি ও পুরোনো বৈদ্যুতিক কেবলের ব্যবসা করতেন এবং স্থানীয় ভাঙারি ব্যবসার একটি সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে ছিলেন। মাহমুদুল হাসান মহিন ও সারোয়ার হোসেন টিটু এই ব্যবসায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছিলেন। সোহাগের চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি এই হত্যাকাণ্ডের কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিবারের দাবি, সোহাগকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার দোকান থেকে ডেকে নিয়ে পাথর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়।
আরও পড়ুন: পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী হত্যায় চারজন গ্রেপ্তার, বিদেশি পিস্তল উদ্ধার
র্যাব মহাপরিচালক বলেন, “ডিএমপি মূল তদন্ত পরিচালনা করছে, আর আমরা ছায়া তদন্তের মাধ্যমে সহায়তা করছি। হত্যার পূর্ণাঙ্গ কারণ জানতে তদন্ত চলমান, এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, সোহাগকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার পর তার মরদেহের ওপরও নৃশংসতা চালানো হয়, যা ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
কোতোয়ালি থানায় হত্যা ও অস্ত্র আইনে দুটি মামলা দায়ের হয়েছে। আদালত মাহমুদুল হাসান মহিনের পাঁচ দিন এবং তারেক রহমান রবিনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, এই মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে, দ্রুত বিচার দাবি করে।



















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































