নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) শুনানিতে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, আপিল বিভাগ সাময়িক সমাধানের পরিবর্তে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সুদূরপ্রসারী ও কার্যকর সমাধান চায়। তিনি জানান, এমন একটি ব্যবস্থা প্রয়োজন যা বারবার বিতর্কের মুখে পড়বে না এবং দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বুধবার (২৭ আগস্ট) সকাল ৯:৩৫ মিনিটে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনার শুনানি শুরু হয়। এটি দ্বিতীয় দিনের শুনানি। রাজনৈতিক দল ও ছয় ব্যক্তির দায়ের করা চারটি আবেদনের ওপর এই শুনানি চলছে। আবেদনকারীদের পক্ষে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির এবং রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান শুনানিতে অংশ নিচ্ছেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ১৯৯৬ সালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে প্রবর্তিত হয়। ১৯৯৮ সালে অ্যাডভোকেট এম সলিমউল্লাহসহ তিনজন এই ব্যবস্থার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্ট এটিকে বৈধ ঘোষণা করে। তবে, ২০১১ সালের ১০ মে আপিল বিভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে, যদিও দশম ও একাদশ সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করার অনুমতি দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: দেশ নির্বাচন জন্য যথেষ্ট প্রস্তুত এবং স্থিতিশীল: প্রধান উপদেষ্টা
২০১১ সালের ৩০ জুন পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুরোপুরি বিলুপ্ত করা হয়। গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর এই রায় পুনর্বিবেচনার দাবিতে আবেদন করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, তোফায়েল আহমেদ, এম হাফিজউদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভুঁইয়া, জাহরা রহমান, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেন।
প্রধান বিচারপতির মন্তব্য:
প্রধান বিচারপতি শুনানিতে বলেন, “আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে সাময়িক সমাধান দিতে চাই না। আমরা এমন একটি কার্যকর সমাধান চাই, যা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় স্থায়ী প্রভাব ফেলবে এবং ভবিষ্যতে বারবার বিঘ্নিত হবে না।” তিনি আরও প্রশ্ন রাখেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল হলে তা কখন থেকে কার্যকর হবে।
শুনানি ২০২৫ সালের ২১ অক্টোবর পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।



















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































