জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতাকে আইনি সুরক্ষা ও দায়মুক্তি দিতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। গতকাল রোববার রাতে আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এই ঐতিহাসিক অধ্যাদেশের গেজেট প্রকাশিত হয়েছে।
এর আগে ১৫ জানুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়।
অধ্যাদেশের মূল বিধানসমূহ
- মামলা প্রত্যাহার ও দায়মুক্তি: জুলাই-আগস্টে ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটানোর লক্ষ্যে গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার করা হবে। ভবিষ্যতে এ সংক্রান্ত কোনো মামলা দায়ের করা যাবে না।
- সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৬ অনুযায়ী সুরক্ষা: অভ্যুত্থানকালে ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্বিচার হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র আক্রমণ প্রতিরোধে আত্মরক্ষাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ অনিবার্য হয়ে ওঠে। এ কারণে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৬ অনুযায়ী অভ্যুত্থানকারীদের সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে।
- মামলা প্রত্যাহার প্রক্রিয়া: পাবলিক প্রসিকিউটর বা সরকারনিযুক্ত আইনজীবীর প্রত্যয়নের ভিত্তিতে আদালতে আবেদন করা হবে। আবেদনের পর আদালত আর কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করবেন না। মামলা প্রত্যাহার হিসেবে গণ্য হবে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি অবিলম্বে খালাস পাবেন।
- হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের ক্ষেত্রে: জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ দাখিল করা যাবে। কমিশন তদন্ত করবে। তবে হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি যদি পুলিশ বা অন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হন, তাহলে কমিশন ওই বাহিনীর কোনো কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দিতে পারবে না।
- তদন্তে গ্রেপ্তার: গ্রেপ্তার বা হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজন হলে তদন্তকারী কর্মকর্তা যুক্তিসংগত কারণ উল্লেখ করে কমিশনের অনুমোদন নিতে হবে।
- তদন্তের ফলাফল: অভিযোগ যদি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অপরাধমূলক অপব্যবহার বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে কমিশন আদালতে প্রতিবেদন দেবে। আদালত সেটিকে পুলিশ প্রতিবেদন হিসেবে গণ্য করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।
- রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ হলে: অভিযোগ যদি রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে কমিশন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য সরকারকে আদেশ দিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে আদালতে কোনো মামলা বা আইনগত কার্যধারা গ্রহণ করা যাবে না।
- বিধি প্রণয়ন: অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সরকার প্রয়োজনে বিধি প্রণয়ন করতে পারবে।
এই অধ্যাদেশ জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে সাংবিধানিক ও আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি অভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের মামলা থেকে সুরক্ষা প্রদান করছে। এটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































