সাভার-ঘুষের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দুই কর্মকর্তার মারামারি-newsedge24

সাভার পৌরসভার গেন্ডা এলাকায় অবস্থিত কার্যালয়ে ঘুষের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দুই কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম ও নাজমুলের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি গত বুধবার (২০ আগস্ট) দুপুরে সংঘটিত হয়। এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, চলতি বছরের জুন মাসে সাভার পৌরসভার দক্ষিণ দরিয়াপুর মৌজার একটি হোল্ডিংয়ের মালিকানা পরিবর্তনের জন্য হাকিম আলী সরদার নামে এক ব্যক্তি আবেদন করেন। এই আবেদনের প্রেক্ষিতে পৌরসভার কর আদায়কারী নজরুল ইসলাম তার কাছ থেকে ৫,০০০ টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন, কিন্তু ফাইলটির কাজ নিষ্পত্তি না করে দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখেন।

বুধবার দুপুরে ফাইলটি আরেক কর্মকর্তা নাজমুলের কাছে পৌঁছালে তিনিও হাকিম আলী সরদারের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণ করেন। এরপর নজরুল ইসলাম ঘুষের টাকার ভাগ চাইলে দুজনের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরে বিষয়টি হাতাহাতিতে রূপ নেয় এবং অফিস কক্ষের মধ্যেই তারা মারামারিতে লিপ্ত হন।

ঘটনার খবর পেয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা পৌরসভা কার্যালয়ে পৌঁছালে তখনও দুই কর্মকর্তা মারামারিতে জড়িত ছিলেন। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়। এরপর দুই কর্মকর্তা গা-ঢাকা দেন।

পৌরসভার সহকারী কর নির্ধারক তন্দ্রা ইয়াসমিন, যিনি ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন, জানান, “নাজমুল ভাই ও নজরুল ভাইয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয় এবং পরে একে অপরকে আঘাত করেন। মূলত একটি ফাইল নিয়ে ঘটনাটি ঘটে।” তবে ঘুষের বিষয়ে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আরও পড়ুন: সাবেক ডিবি প্রধান হারুনসহ ১৮ পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত

নাজমুল হাসান অভিযোগ করেন, নজরুল ইসলাম গ্রাহকের কাছ থেকে ৫,০০০ টাকা নিয়ে মাত্র ১,১৫০ টাকার রশিদ দিয়েছেন এবং ফাইলের কাজ পেন্ডিং রেখেছেন। এ বিষয়ে প্রশ্ন করায় নজরুল উত্তেজিত হয়ে তাকে আঘাত করেন, যার ফলে হাতাহাতি হয়।

অন্যদিকে, নজরুল ইসলাম মারামারির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ঘটনাটি আমাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি। কোনো মারামারি হয়নি।”

তদন্ত কমিটি গঠন

ঘটনার পর সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক আবুবকর সরকার জানান, বিষয়টি তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এবং প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *