সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী-newsedge24

হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের কিছু ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের স্বাক্ষরের পর ১৩৯ পৃষ্ঠার এই রায় আজ সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে।

২০১১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়। এছাড়া সংবিধানে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার মতো চার মূলনীতি ফিরিয়ে আনা হয়, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহাল রেখে অন্যান্য ধর্মের সমমর্যাদা নিশ্চিত করা হয়, ১৯৭১ সালের সাতই মার্চের ভাষণ, স্বাধীনতার ঘোষণা ও ঘোষণাপত্র সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এছাড়া অবৈধ ক্ষমতা দখলের জন্য রাষ্ট্রদ্রোহের সর্বোচ্চ শাস্তি এবং জাতির পিতা হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বীকৃতিসহ সংরক্ষিত নারী আসন ৫০-এ উন্নীত করা হয়।

হাইকোর্টের রায়ে পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ ধারা, যা তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তির সঙ্গে সম্পর্কিত, সংবিধানের মৌলিক কাঠামো গণতন্ত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া সংবিধানের ৭ক, ৭খ, ৪৪(২) এবং গণভোটের বিধান বিলুপ্তির সঙ্গে সম্পর্কিত ৪৭ ধারাও বাতিল করা হয়েছে। ফলে দ্বাদশ সংশোধনীর ১৪২ অনুচ্ছেদে গণভোটের বিধান পুনর্বহাল হয়েছে।

রায়ে যা বলা হয়

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের বাকি বিধানগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব জাতীয় সংসদের। সংসদ জনগণের মতামতের ভিত্তিতে এই বিধানগুলো সংশোধন বা পরিবর্তন করতে পারবে। তবে চার মূলনীতি, নিজ দলের বিরুদ্ধে ভোটদান, জাতির জনক ও সাতই মার্চের ভাষণের বিষয়গুলো সংসদের জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: ষোড়শ সংশোধনীর উদ্দেশ্য ছিল কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী শাসন: সুপ্রিম কোর্ট

রিট শুনানিতে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী ড. শরিফ ভূঁইয়া, বিএনপি’র পক্ষে জয়নুল আবেদীন, বদরুদ্দোজা বাদল, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও অ্যাডভোকেট ফারজানা শারমিন পুতুল, জামায়াতের পক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির, ইনসানিয়াত বিপ্লব দলের পক্ষে আব্দুর রউফ ও ইশরাত হাসান এবং সুপ্রিম কোর্টের কয়েকজন আইনজীবীর পক্ষে ব্যারিস্টার জুনায়েদ আহমেদ চৌধুরী শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদ উদ্দিন।

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হয় এবং ৩ জুলাই গেজেট প্রকাশিত হয়। এই আইনের বৈধতা নিয়ে সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি গত আগস্টে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *