রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে শনিবার (২৪ মে, ২০২৫) সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন। রাষ্ট্রীয় ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকগুলোতে নির্বাচনের সময়সীমা, সংস্কার প্রক্রিয়া, গণহত্যার বিচার এবং উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা হয়।
বিএনপি’র প্রতিনিধিদল, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের জন্য দ্রুত রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে। তারা বিতর্কিত উপদেষ্টাদের (নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও দুই ছাত্র উপদেষ্টা) বাদ দিয়ে উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন এবং আওয়ামী লীগের আমলের নির্যাতনের বিচারের ওপর জোর দিয়েছে। ড. মোশাররফ বলেন, “নির্বাচন বিলম্বিত হলে স্বৈরাচার ফিরে আসার ঝুঁকি তৈরি হবে। আমরা ড. ইউনূসের পদত্যাগ চাইনি, তবে সরকারের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে।”
জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান দুটি বিষয়ে স্পষ্ট রোডম্যাপ দাবি করেছেন, নির্বাচনের সময়সীমা এবং সংস্কার ও জুলাই গণহত্যার বিচারের দৃশ্যমান অগ্রগতি। তিনি বলেন, “সংস্কার ছাড়া নির্বাচন জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করবে না। তবে ড. ইউনূসের পদত্যাগ দেশে সংকট সৃষ্টি করবে।” বৈঠকে নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জুলাই গণহত্যার বিচার, নির্বাচন কমিশন সংস্কার, স্থানীয় সরকার নির্বাচন, এবং গণপরিষদ নির্বাচনের সমন্বিত রোডম্যাপ দাবি করেছেন। তারা শেখ হাসিনার আমলের নির্বাচনগুলো অবৈধ ঘোষণা এবং শহীদ পরিবার ও আহতদের দ্রুত পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, বৈঠকগুলো সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ড. ইউনূস ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন এবং এ মাসে জুলাই গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়া শুরুর আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, “সব দল ড. ইউনূসের নেতৃত্বে আস্থা প্রকাশ করেছে। তবে নির্বাচন কমিশনের সংস্কার ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।”
আজ রোববার (২৫ মে, ২০২৫) বিকালে ড. ইউনূস ইসলামী আন্দোলন, এবি পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, গণঅধিকার পরিষদ, নেজামে ইসলামী পার্টি, এবং হেফাজতে ইসলামের নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবেন। এই বৈঠকগুলো যমুনায় অনুষ্ঠিত হবে, এবং প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, সব প্রতিনিধিত্বশীল দলের সঙ্গে আলোচনার পর করণীয় নির্ধারণ করা হবে।



















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































