কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে শনিবার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হলো ১৯৯তম ঈদুল ফিতরের জামাত। মুফতি আবুল খায়ের মুহাম্মদ ছাইফুল্লাহর ইমামতিতে লাখো মুসল্লির উপস্থিতিতে

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে শনিবার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হলো ১৯৯তম ঈদুল ফিতরের জামাত। মুফতি আবুল খায়ের মুহাম্মদ ছাইফুল্লাহর ইমামতিতে লাখো মুসল্লির উপস্থিতিতে এই জামাত দেশের বৃহত্তম ঈদ সমাবেশের ঐতিহ্যকে আরও উজ্জ্বল করেছে। নামাজ শেষে দেশ ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি-সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত হয়েছে।

ভোর থেকেই শোলাকিয়া ময়দানে মুসল্লিদের ঢল নামে। সকাল ৯টার মধ্যে মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। এরপরও আশপাশের সড়ক, খোলা জায়গা ও বাড়ির উঠানে নামাজের জায়গা করে নেন অসংখ্য ভক্ত। ঐতিহ্য অনুসারে জামাত শুরুর আগে তিন ধাপে শর্টগানের ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়—এই শব্দই মুসল্লিদের প্রস্তুতির চূড়ান্ত সংকেত। নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত এই ময়দানে এবারও দেখা গেছে অপূর্ব ধর্মীয় উৎসাহ ও ঐক্যের দৃশ্য।

শোলাকিয়া ঈদগাহের ইতিহাস প্রায় দুশো বছরের। ১৮২৮ সালে (১২৪৮ হিজরি) প্রথম ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয় মাওলানা সৈয়দ আহমদের ইমামতিতে। তখন থেকে এটি অব্যাহত। ময়দানের আয়তন ৭ একর হলেও মুসল্লির সংখ্যা এর সীমা ছাড়িয়ে যায়। প্রতি বছর দেশের ৬৪ জেলা ছাড়াও প্রতিবেশী দেশ থেকে আসেন ভক্তরা। কেউ হেঁটে, কেউ ট্রেনে, কেউ নৌকায়—সবাই একই উদ্দেশ্যে ছুটে আসেন। এবারও বিশেষ ট্রেন ‘শোলাকিয়া স্পেশাল’ চালু করা হয়েছে যাতায়াত সহজ করতে।

এবারের জামাতে নিরাপত্তা ছিল অত্যন্ত কড়া। পাঁচ স্তরের (কিছু সূত্রে চার-পাঁচ স্তর) নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিজিবি’র পাঁচ প্লাটুন মোতায়েন, ড্রোন নজরদারি, তল্লাশি চৌকি—সবকিছু মিলে মুসল্লিদের নিরাপদে নামাজ আদায়ের পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়। জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও স্থানীয় কমিটির সমন্বিত প্রচেষ্টায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *