পেট্রোল পাম্প-newsedge4

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। গতকালও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার পেট্রোল পাম্পে যানবাহন মালিক-চালকদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। দাম বাড়ার আশঙ্কায় অনেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কিনে মজুত করছেন। এতে কিছু কিছু পাম্পে তেলের সংকট দেখা দিয়েছে এবং অনেক পাম্প তেল বিক্রি বন্ধ রেখেছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) গতকাল বৃহস্পতিবার ফিলিং স্টেশনগুলোর জন্য তেল সরবরাহের সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দিয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। নির্দেশনা অনুসারে:

  • মোটরসাইকেলের জন্য প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রোল বা অকটেন
  • প্রাইভেটকারের জন্য সর্বোচ্চ ১০ লিটার
  • এসইউভি, জিপ ও মাইক্রোবাসের ক্ষেত্রে ২০ থেকে ২৫ লিটার
  • পিকআপ ও লোকাল বাসের জন্য ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল
  • দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও কন্টেইনার ট্রাকের জন্য ২০০ থেকে ২২০ লিটার ডিজেল

এ ছাড়া ফিলিং স্টেশনগুলোকে প্রতিবার তেল বিক্রির সময় তেলের ধরন, পরিমাণ ও দাম উল্লেখ করে রসিদ দিতে হবে। ক্রেতাকে প্রতিবার তেল কেনার সময় আগের রসিদ দেখাতে হবে। এই ব্যবস্থা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিপিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সীমা আরোপের উদ্দেশ্য হলো মজুতদারি রোধ করা এবং সব যানবাহনের জন্য সমানভাবে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকায় দেশীয় বাজারে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় তেল সরবরাহে ব্যাঘাতের আশঙ্কা রয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন পাম্পে গিয়ে দেখা গেছে, সকাল থেকেই লাইন দীর্ঘ হয়ে পড়েছে। অনেক চালক বলছেন, “দাম বাড়লে পরে কিনতে হবে দ্বিগুণ দামে। তাই এখনই কিনে রাখছি।” কিছু পাম্প মালিক জানিয়েছেন, সরবরাহ কমে যাওয়ায় তারা সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রি করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *