নাহিদ ইসলাম-newsedge24

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, প্রথম আলো, ডেইলি স্টার ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলা সম্পূর্ণ পরিকল্পিত ছিল। এতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্লোগান ও শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে ব্যবহার করা হয়েছে। সরকারের ভিতরের একটি অংশের সংশ্লিষ্টতা, সমাজে সম্মতি তৈরি ও রাজনৈতিক ব্যাকআপ ছাড়া এমন সাহসী হামলা সম্ভব নয়।

সোমবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সম্পাদক পরিষদ ও নোয়াব আয়োজিত যৌথ প্রতিবাদ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় মব ভায়োলেন্স, গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলার প্রতিবাদ জানানো হয়।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “যারা হামলা চালিয়েছে, তারা আমাদের স্লোগান ব্যবহার করে সম্মতি তৈরি করেছে। শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে ব্যবহার করে এটি ঘটানো হয়েছে। এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; সরকারের ভিতরের অংশ, সমাজে সম্মতি ও রাজনৈতিক ব্যাকআপ ছাড়া কয়েক হাজার মানুষের সাহস হতো না।”

তিনি আরও বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা যে পরিবেশ প্রত্যাশা করেছিলাম, সেখানে যাচ্ছি না। এটি দুর্ভাগ্যজনক। আমরা যারা জুলাইয়ে অংশ নিয়েছি, আমাদেরও দায় আছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলাম।”

নাহিদ মব ভায়োলেন্সের ধারণা নিয়েও বলেন, “প্রথমে আমি এই শব্দের বিরোধিতা করতাম, কারণ ফ্যাসিস্টরা জুলাইকে মবোক্রেসি বলত। কিন্তু দেড় বছর পর এটি পরিকল্পিত অপরাধ। রাজনীতি ও নির্বাচনকে নিয়ন্ত্রণের জন্য এই চক্রান্ত।”

আরও পড়ুন: জাতীয় দৈনিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে হামলা: ৩১ জন শনাক্ত, গ্রেপ্তার ৯

তিনি সবাইকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “যারা হামলা করেছে, তাদের পরিচয় স্পষ্ট। কারা সম্মতি তৈরি করেছে, কারা লেখালেখি করেছে—সবাই জানে। সরকারকে বাধ্য করতে হবে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার করতে। শরিফ ওসমান হাদিকে প্রকাশ্যে গুলি করার ঘটনাও সুরাহা করতে হবে।”

সভায় তিনি আহ্বান জানান, “জুলাইয়ের নামে কোনো অপকর্ম বরদাশত করব না। মিডিয়ায় হামলা, প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর—এসবের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। সেই রাতে আমাদের ব্যারিকেড তৈরি করা উচিত ছিল।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *