সরকার সাত মাস পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পুনর্গঠন করে এনসিপিকে লক্ষ্য করেছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। শুক্রবার জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এ অভিযোগ তোলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘দুদককে নিয়ে নতুন কান্ড শুরু হয়েছে। সাত মাস পরে দুদক পুনর্গঠন করে এনসিপিকে টার্গেট করা হয়েছে। বিরোধী দলকে লক্ষ্য করা হচ্ছে। যদি সাহস থাকে, তাহলে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের দুর্নীতির অভিযোগগুলো তদন্ত করুন। যারা বারবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন, তারাই এ দেশের রাস্তায় ইট-পাথর থেকে শুরু করে মহিষের ঘাস পর্যন্ত চাঁদাবাজি করেছেন। দুর্নীতি কারা করেছে, বাংলাদেশের মানুষ তা অতীতেও দেখেছে।’
মানবাধিকার, গুম প্রতিরোধ, এসআরবি ও সাইবার আইনে গণবিরোধী সংশোধনী এবং নাগরিকদের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের ব্যর্থতার প্রতিবাদে এনসিপি এ মানববন্ধনের আয়োজন করে।
তারেক রহমানের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘তারেক রহমানের হাতে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সুরক্ষিত নয়। তিনি নতুন স্বৈরাচার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তবে আমরা বিশ্বাস করি, তিনি শেখ হাসিনার মতো স্বৈরাচার হতে পারবেন না। তার আগেই এ দেশের জনগণ রাজপথ প্রকম্পিত করে এই স্বৈরাচারী প্রবণতাকে রুখে দেবে।’
ভিন্নমতের নাগরিকদের দমনের অভিযোগ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘মিরাজ শেখ কোথায়? পাঁচ মাস ধরে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। গাজী সালাউদ্দিন তানভীর হাসপাতালে ভর্তি, তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে। তিনি কি সন্ত্রাস করেছেন? গাজীপুরের সিফাতের বিরুদ্ধেও একই আইনে মামলা হয়েছে। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিম বানানো বা কটূক্তি করা কি সন্ত্রাস?’
আরও পড়ুন: ‘সৎ থাকাটাই সবচেয়ে বড় অপরাধ’: আসিফ মাহমুদ
গুম ও সাইবার আইনের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘গুম আইনে এমন বিধান রাখা হয়েছে যে, অভিযোগ যদি ভুল প্রমাণিত হয়, তাহলে অভিযোগকারীকেই কয়েক বছরের শাস্তি পেতে হবে। এতে কেউ আর অভিযোগ করতে সাহস পাবে না। আগে বিএনপি গুমের আন্তর্জাতিক তদন্ত চাইতো। এখন তারা এক বাহিনী গুম করলে অন্য বাহিনী দিয়ে তদন্ত করাতে চাচ্ছে। এর ফলে গুমের কোনো বিচার হবে না। অবিলম্বে এসব আইন সংশোধন করতে হবে, যাতে মানবাধিকার কমিশন নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে পারে। সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনের নামে মতপ্রকাশের অধিকার হরণ করা যাবে না।’
সরকার জাতীয় সংসদকে কলুষিত করেছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘এই সরকারের কথা ছিল মানবাধিকার সুরক্ষা দেবে। কিন্তু তারা মানবাধিকার হরণের মতো আইন ও প্রতিষ্ঠান তৈরি করছে। আমরা যে গণঅভ্যুত্থান করেছিলাম, দেশের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য লড়াই করেছিলাম—সেই অধিকার এখনো নিশ্চিত হয়নি।’
মানববন্ধনে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































