দিনভর অবরুদ্ধ থাকার পর উপদেষ্টাদের ক্যাম্পাস ত্যাগ-newsedge24

রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে দিনভর অবরুদ্ধ থাকার পর ক্যাম্পাস ছেড়েছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভের মুখে তারা কলেজের একাডেমিক ভবনে অবরুদ্ধ ছিলেন।

বিকাল সাড়ে পাঁচটার পর পুলিশ ও র‍্যাবের সহায়তায় পিছনের ফটক দিয়ে তাদের ক্যাম্পাস থেকে বের করে নেওয়া হয়। তবে, শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে।

মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে মাইলস্টোন স্কুলে যান ড. আসিফ নজরুল, অধ্যাপক সি আর আবরার এবং শফিকুল আলম। কিন্তু ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাদের ঘিরে ধরে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে পথ আটকে দেয়। ফলে তারা কলেজের ৫ নম্বর ভবনের একটি কনফারেন্স কক্ষে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।

দুই দফায় সামনের ফটক দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করলেও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের কারণে তা সম্ভব হয়নি। দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় পুলিশ সদস্যরাও ভবনে প্রবেশ করে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

বিকালে পুলিশ ও র‍্যাব সদস্যরা শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানান। কিন্তু শিক্ষার্থীরা গেটে ব্যারিকেড দিয়ে পথ আটকে রাখেন। শেষ পর্যন্ত বিকাল সাড়ে পাঁচটার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পিছনের ফটক দিয়ে অবরুদ্ধ উপদেষ্টাদের বের করে নিয়ে যায়।

পুলিশের এডিশনাল ডিআইজি (উত্তরা) মো. মুহিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। উপদেষ্টারা নিরাপদে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেছেন।”

শিক্ষার্থীদের দাবি ও বিক্ষোভ

শিক্ষার্থীরা ছয় দফা দাবি নিয়ে বিক্ষোভ করছে, যার মধ্যে রয়েছে:

  • নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ।
  • শিক্ষক ও অভিভাবকদের ওপর সেনাবাহিনীর হামলার জন্য ক্ষমা চাওয়া।
  • আহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ।
  • নিহত ও আহতদের সঠিক তথ্য প্রকাশ।
  • বিমানবাহিনীর ঝুঁকিপূর্ণ বিমান বাতিল।
  • দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তি।

আরও পড়ুন: মাইলস্টোন স্কুলে পরিদর্শনে গিয়ে ২ উপদেষ্টা অবরুদ্ধ

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শিক্ষার্থীদের দাবি যৌক্তিক বলে মেনে নিয়ে তথ্যকেন্দ্র স্থাপন, ক্ষতিপূরণ, এবং তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে। সরকার শিক্ষকদের ওপর হামলার জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছে এবং সেনা কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে বলেছে। তবে শিক্ষার্থীরা দিয়াবাড়ি গোলচত্বরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে, দাবি পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *