সিইসি নুরুল হুদা-newsedge24

২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি ও ‘রাতের ভোট’ হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। সম্প্রতি একটি মামলায় আদালতে দেওয়া তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসে, যা বিরোধীদের কাছে ‘রাতের ভোট’ হিসেবে পরিচিত।

জবানবন্দিতে নুরুল হুদা বলেন, নির্বাচনের পর রেজাল্ট শিট দেখে তিনি জানতে পারেন অনেক কেন্দ্রে ৯০-১০০ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা তার কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। তিনি শুনেছেন, অনেক কেন্দ্রে রাতেই ব্যালট বাক্স ভর্তি করা হয়েছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রভাবে দলীয় কর্মী, পুলিশ, রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের যোগসাজশে এই কারচুপি হয়েছে। তিনি ও তার কমিশনকে অন্ধকারে রেখে এই অনিয়ম করা হয়।

তিনি আরও বলেন, তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল কেন্দ্রীয়ভাবে পরিকল্পনা করে প্রশাসন ও পুলিশের অসৎ কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ‘দিনের ভোট রাতে’ করেছে। অনিয়ম লুকাতে ফিল্ড কর্মকর্তাদের টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই ও ডিজিএফআই পুরো নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করেছে। সংবাদমাধ্যমকে অর্থ দিয়ে পক্ষে নেওয়া হয়েছিল, তাই অনিয়মের খবর প্রকাশ হয়নি।

নির্বাচনী প্রক্রিয়া বর্ণনা করে তিনি বলেন, নিয়মানুসারে ভোটের সকালে ব্যালট বাক্স খুলে এজেন্টদের দেখানো হয় এবং শূন্য থাকলে ফরমে স্বাক্ষর করা হয়। কিন্তু ২০১৮-এ এই নিয়ম লঙ্ঘন হয়েছে। তৎকালীন ইসি সচিব হেলাল উদ্দিন আহমেদের ভূমিকাকে সন্দেহজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাগনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হওয়ায় কিছু প্রাধান্য পেয়েছে বলে মনে করেন, তবে মনোনয়নে তার সংশ্লিষ্টতা নেই।

এই জবানবন্দি ২০২৫ সালের জুন-জুলাইয়ে রাষ্ট্রদ্রোহ ও নির্বাচন কারচুপির মামলায় দেওয়া হয়। বিএনপির দায়ের করা মামলায় নুরুল হুদা গ্রেপ্তার হয়ে রিমান্ডে ছিলেন। জবানবন্দির পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন: এনসিপি ছেড়ে স্বতন্ত্র নির্বাচনের ঘোষণা দিলেন তাসনিম জারা

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ ওঠে। বিরোধীরা এটিকে ‘রাতের ভোট’ বলে আখ্যায়িত করে। নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশনের অধীনে এই নির্বাচন হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *