গণঅধিকার পরিষদ ও পুলিশের সংঘর্ষ-newsedge24

রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির (জাপা) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গণঅধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশ ও জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর আহত হয়েছেন। তাকে দলের নেতা-কর্মীরা হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথবাহিনীর সদস্যরা হস্তক্ষেপ করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাত সোয়া ৮টার দিকে দ্বিতীয় দফায় গণঅধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীরা জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। এ সময় জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী ও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পৌঁছান।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গণঅধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে ১০ মিনিট সময় দেয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তারা স্থান ত্যাগ না করায় যৌথবাহিনীর সদস্যরা ব্যাপক লাঠিচার্জ করে। এতে নুরুল হক নুরসহ দলের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হন। আহতদের মধ্যে নুরকে কাকরাইলের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গণঅধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীরা দাবি করেছেন, তাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে জাতীয় পার্টির কার্যালয় থেকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে হামলা করা হয়। গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন, “জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা আমাদের মিছিলে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে।” তিনি আরও জানান, আহতদের চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনকে কারাগারে প্রেরণ

অন্যদিকে, জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা অভিযোগ করেছেন, গণঅধিকার পরিষদের মিছিল তাদের কার্যালয়ের সামনে এসে উস্কানি দিয়েছে এবং হামলা চালিয়েছে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের প্রেস সেক্রেটারি খন্দকার দেলোয়ার জালালী বলেন, “আমাদের কার্যালয়ে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। আমরা শান্তির পক্ষে, কিন্তু এ ধরনের হামলা মেনে নেওয়া যায় না।”

সংঘর্ষের খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের সরিয়ে দেয়। পরে গণঅধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করা হয়। রমনা থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আতিকুল আলম খন্দকার বলেন, “সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। পরে রাতে দ্বিতীয় দফা সংঘর্ষে আমরা হস্তক্ষেপ করেছি। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *