ডলার-newsedge24

চলতি ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৭ মে ২০২৫ পর্যন্ত প্রবাসীরা দেশে ২৫.২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন, যা এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে সর্বোচ্চ ২৪.৭৭ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ডকে ভেঙেছে।

গত অর্থবছরে (জুলাই ২০২৩-৭ মে ২০২৪) এই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৯.৭২ বিলিয়ন ডলার। চলতি অর্থবছরে মে মাসের প্রথম সাত দিনে ৭৩৫ মিলিয়ন ডলার এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ের ৬০১ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় ২২.৩% বেশি। মার্চ ২০২৫-এ দেশে রেকর্ড ৩.২৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা দেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ। এপ্রিলে ২.৭৫ বিলিয়ন ডলার এসেছে, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মাসিক রেকর্ড।

সৌদি আরব থেকে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে, এপ্রিলে যার পরিমাণ ৪৯১.৪২ মিলিয়ন ডলার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৭২.১৭ মিলিয়ন ডলার এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। তবে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষে ছিল, কিন্তু এপ্রিলে ৩৩০.৭৪ মিলিয়ন ডলার পাঠিয়ে তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে। শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্য (২৯৪.১ মিলিয়ন), মালয়েশিয়া (২১০.৯ মিলিয়ন), কুয়েত (১৬২.৭৩ মিলিয়ন), ইতালি (১৫০.৫৯ মিলিয়ন), ওমান (১৪৮.৩৪ মিলিয়ন), সিঙ্গাপুর (১১৮.৫৮ মিলিয়ন) এবং কাতার (১০৪.২৫ মিলিয়ন)।

অন্যান্য দেশ থেকে উল্লেখযোগ্য রেমিট্যান্স এসেছে বাহরাইন (৬৪.৫৩ মিলিয়ন), ফ্রান্স (৩১.৭৮ মিলিয়ন), সাউথ আফ্রিকা (২৮.৮৬ মিলিয়ন), সাউথ কোরিয়া (২৪.৪১ মিলিয়ন), কানাডা (২৩.৭ মিলিয়ন), জার্মানি (১৬.৯২ মিলিয়ন), অস্ট্রেলিয়া (১৬.৩৪ মিলিয়ন), গ্রিস (১৪.৭১ মিলিয়ন), জর্ডান (১৪.৪৭ মিলিয়ন) এবং মালদ্বীপ (১২.৫১ মিলিয়ন) থেকে। এছাড়া স্পেন, মরিশাস, ব্রুনাই, জাপান, পর্তুগাল, ইরাক, লেবানন, পোল্যান্ড, সুইডেন, ফিনল্যান্ডসহ অন্যান্য দেশ থেকে মোট ৪২.১৮ মিলিয়ন ডলার এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র হুসনে আরা শিখা জানান, হুন্ডির চাহিদা কমে যাওয়া এবং আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলের ডলার রেটের পার্থক্য প্রায় ১ টাকায় নেমে আসায় রেমিট্যান্স বেড়েছে। উচ্চ ডলার রেট, ঈদ-উল-আজহার মতো উৎসব, এবং হুন্ডির উপর কঠোর নজরদারি রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। এই প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়িয়েছে, যা ৬ মে ২০২৫ পর্যন্ত ২৭.৪৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *