শীর্ষ-সন্ত্রাসী-মামুন-নিহত-newsedge24

রাজধানীর পুরান ঢাকার সূত্রাপুরে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের সামনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুন (৫৫) নিহত হয়েছেন। সোমবার (১০ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক পৌনে ১২টায় মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের সূত্র জানায়, নিহত মামুন একসময় শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের সহযোগী ছিলেন। অপরাধজগতের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ‘ইমন-মামুন’ বাহিনী নামে পরিচিত তাঁদের গড়ে তোলা দল ছিল হাজারীবাগ, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর ও তেজগাঁওয়ের আতঙ্ক। তাঁরা চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী ও সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের ভাই সাঈদ আহমেদ টিপু হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। মামুনের বাড়ি লক্ষ্মীপুরে, জন্ম ১৯৭০ সালে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায়, দুর্বৃত্তরা খুব কাছ থেকে মামুনকে গুলি করে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, মামুন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করছেন। তখন দুই ব্যক্তি খুব কাছে থেকে তাঁকে গুলি করেন। ঘটনাটি তিন-চার সেকেন্ডের মধ্যে ঘটে। গুলি করার পর দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে পালায়। মোটরসাইকেলে থাকা দুজনের মাথায় হেলমেট ছিল।

কোতোয়ালী থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইয়াসিন বলেন, গুলির শব্দ শুনতে পেয়ে তিনি হাসপাতালের সামনে যান। গিয়ে দেখেন, মামুন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছেন। খুব কাছ থেকে তাঁকে গুলি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী একজন বলেন, দুজন দুর্বৃত্ত হাসপাতালের প্রবেশমুখে এসে মামুনকে পেছন থেকে গুলি করেন। কয়েকটি গুলি করার পর মামুন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

মামুনের স্ত্রী বিলকিস আক্তার বলেন, তাঁরা ধারণা করছেন, সানজিদুল ইসলাম ইমনের লোকজন এই হত্যার সঙ্গে জড়িত। এর আগেও ইমনের লোকজন মামুনকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। মামুনের খালাতো ভাই হাফিজ বলেন, মামুন একজন সাধারণ ব্যবসায়ী ছিলেন। রাজনীতি বা অপরাধের সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগ ছিল না। কারা এবং কেন তাঁকে হত্যা করল, তা তাঁরা জানেন না। তিনি দুই দিন ধরে রাজধানীর বাড্ডার ভাড়া বাসায় ছিলেন। আজ সকালে একটি মামলায় আদালতে হাজিরা দেওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হন।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে বাবলা হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়া দুই আসামি গ্রেপ্তার

ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন, নিহত মামুন ইমন গ্রুপের শীর্ষ সন্ত্রাসী ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। দ্রুত অপরাধীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, নিহতের লাশ মর্গে রাখা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *