নাটোরে গুলি-সংঘর্ষ: বিএনপি–জামায়াতের অন্তত ৬ জন আহত

নাটোরের বড়াইগ্রামে এক জামায়াত কর্মীকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ধানাইদহ পূর্বপাড়া এলাকায় শুরু হওয়া এ সংঘর্ষে কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ হয় এবং উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হন।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে এলাকায় একটি রাজনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে এক জামায়াত কর্মী মারধরের শিকার হন। এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত দুই পক্ষের সমর্থকেরা জড়ো হতে শুরু করে। প্রথমে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার মধ্য দিয়ে উত্তেজনা বাড়ে, পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষ চলাকালে ককটেল বিস্ফোরণের শব্দের পাশাপাশি কয়েক রাউন্ড গুলির আওয়াজ শোনা যায় বলে জানান এলাকাবাসী।

ঘটনাস্থল ধানাইদহ পূর্বপাড়া সাধারণত শান্ত এলাকা হিসেবে পরিচিত। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে স্থানীয় দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বাধ্য হন। সংঘর্ষের সময় আতঙ্কে শিক্ষার্থী ও বয়স্করা ঘর থেকে বের হতে পারেননি বলে জানান কয়েকজন বাসিন্দা।

আহতদের মধ্যে দুই পক্ষের কর্মী ও সমর্থক রয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং গুরুতর আহত দুজনকে নাটোর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য, আহতদের শরীরে লাঠির আঘাত ও গুলির স্প্লিন্টারের চিহ্ন পাওয়া গেছে, তবে কারও অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়।

এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতারা দাবি করেন, তাদের সমর্থকদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে এবং আত্মরক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অন্যদিকে জামায়াত নেতারা অভিযোগ করেন, বিনা উসকানিতে তাদের এক কর্মীকে মারধর করা হলে প্রতিক্রিয়ায় সংঘর্ষ বাধে। দুই পক্ষই ঘটনার দায় প্রতিপক্ষের ওপর চাপিয়েছে।

ঘটনার পরপরই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক দফা টহল জোরদার করেছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে, তবে নতুন করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় এ ধরনের সহিংসতা বাড়ছে। বিশেষ করে জাতীয় রাজনীতির প্রভাব তৃণমূলে পড়ায় সামান্য ঘটনাও বড় সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে। তারা মনে করছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ ও প্রশাসনের কঠোর অবস্থান ছাড়া এ ধরনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *