সংসদ নেতা-প্রধানমন্ত্রী-তারেক রহমান-newsedge24

দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার টেবিলে উপস্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তরটি টেবিলে উত্থাপিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান ও আমদানিনির্ভরতার কারণে সৃষ্ট বর্তমান জ্বালানি সংকট থেকে উত্তরণে সরকার একাধিক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে।

দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ও অনুসন্ধানে জোর

দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ১৫০টি কূপ খনন/ওয়ার্কওভার কর্মসূচির আওতায় ইতিমধ্যে ৩০টি কূপ খনন সম্পন্ন হয়েছে, যার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে ১৪০ এমএমসিএফডি গ্যাস। বর্তমানে চলমান আরও ৭টি কূপ খনন শেষ হলে যুক্ত হবে অতিরিক্ত ৮৫ এমএমসিএফডি গ্যাস, আর অবশিষ্ট কূপগুলোর জন্য পর্যায়ক্রমে প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

গ্যাসের নতুন উৎস খুঁজতে ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি ও ৪ হাজার ২০০ বর্গ কিলোমিটার ৩ডি সাইসমিক সার্ভে পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাপেক্সকে শক্তিশালী করতে আরও দুটি নতুন রিগ কেনার প্রক্রিয়াও চলমান।

অফশোর মডেল পিএসসি ২০২৬ অনুমোদনের পর ইতিমধ্যে বিড রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে, আর অনশোর মডেল পিএসসি অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

এলএনজি টার্মিনাল সম্প্রসারণ

কক্সবাজারের মহেশখালীর গভীর সমুদ্রে কুতুবজোমে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের লক্ষ্যে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি, আশা প্রকাশ করেন ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এই টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে, যাতে আগামী দুই বছরে এলএনজি আমদানি আরও ৬০০ এমএমসিএফডি বাড়বে। পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা অথবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলে জরুরি ভিত্তিতে আরও এক-দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়েরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রুফটপ সোলারে নতুন প্রণোদনা

সাংসদ নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার ও আগ্রহ বাড়াতে সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। ৮ জুন সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের প্রয়োজনীয় সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারিসহ পণ্যসামগ্রীর ওপর শর্তসাপেক্ষে কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, আগাম কর ও ২ শতাংশ অতিরিক্ত অগ্রিম আয়কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, আগামী ৬ মাসের মধ্যে যারা রুফটপ সোলার স্থাপন করবেন, তাদের গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুৎ সরকার প্রতি ইউনিট ১০.১৫ টাকা হারে কিনবে—অর্থাৎ বাল্ক রেটের অতিরিক্ত অর্থ প্রণোদনা হিসেবে দেওয়া হবে, যা পরবর্তী তিন বছরের জন্য প্রযোজ্য থাকবে। এতে গড় উৎপাদন খরচ ৬-৭ টাকা প্রতি ইউনিট ধরে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত (৪০ শতাংশ মুনাফা ও ৫ শতাংশ প্রিমিয়াম) মুনাফার সুযোগ তৈরি হবে বলে জানান তিনি।

সরকারি ভবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ছাদে সোলার সিস্টেম বসাতে জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী, যার আওতায় ইতিমধ্যে সব জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সোলার সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি জলবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ ও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যক্রমও চলছে।

কওমি মাদরাসা সনদের স্বীকৃতি

সাংসদ মো. মনিরুল হক চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের সব কওমি মাদরাসার সমন্বয়, উন্নয়ন ও পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণের লক্ষ্যে ২০০৬ সালে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে “কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বাংলাদেশ” গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ২০১৮ সালের আইনের মাধ্যমে কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল) সনদকে ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবিতে মাস্টার্স ডিগ্রির সমমান দিয়ে ছয়টি কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত হয়—বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ, বেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া গওহরডাঙ্গা বাংলাদেশ, আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশ, আযাদ দ্বীনি এদারায়ে তালীম বাংলাদেশ, তানযীমুল মাদারিসিদ দ্বীনিয়া বাংলাদেশ এবং জাতীয় দ্বীনি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন: জনগণের আস্থা ধরে রাখাই এখন বিএনপির বড় চ্যালেঞ্জ: রিজভী

তারেক রহমান আরও জানান, গত ২৩ জুন “বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা, ২০২৬” সংশোধন করে সহকারী মৌলভী (ক্বারী) ও ইবতেদায়ী ক্বারী পদে নিয়োগের যোগ্যতায় ছয়টি কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের সনদকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, ফলে দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল) ডিগ্রিসহ ইলমে কিরাআত বা হিফজুল কোরআন সনদধারীদের এই দুই পদে নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *