নির্বাচনের নিরাপত্তায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সর্বাত্মক প্রস্তুত-newsedge24

শনিবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় র‍্যাব-১ ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) সদর দপ্তর পরিদর্শন শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নির্বাচন নিরাপত্তা প্রস্তুতি, উত্তরার ছিনতাই ঘটনা, দুর্নীতি, গুম কমিশনের প্রতিবেদন এবং ভারতের পুশ-ইন ইস্যু নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন।

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, সরকার যখনই নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেবে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বাত্মক প্রস্তুত। তিনি বলেন, “নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা নেই। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।” তিনি ঈদের সময় বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটায় আইন-শৃঙ্খলার উন্নতির কথা উল্লেখ করেন, তবে ছোটখাট চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা স্বীকার করেন। তিনি সামাজিক হত্যাকাণ্ড কমাতে জনসচেতনতার ওপর জোর দেন।

উপদেষ্টা র‍্যাব-১ ও এপিবিএন কার্যালয়ে বিভিন্ন সারির কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং ক্রটি সংশোধনের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ের পুলিশের কাছে রাইফেল থাকলেও ভারী মারণাস্ত্র থাকবে না; এপিবিএনের মতো বিশেষায়িত ইউনিটের জন্য ভারী অস্ত্র বরাদ্দ। তিনি এপিবিএনের ভূমিকাকে যুদ্ধকালীন সেনাবাহিনীর সহায়ক হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বিভিন্ন ইউনিটের জন্য বিশেষায়িত সরঞ্জামের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

উত্তরায় র‌্যাবের পোশাক পরে ১.০৮ কোটি টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “র‍্যাব-পুলিশের পোশাক পরে অপকর্মকারীরা পার পাবে না। তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।” তিনি ঘটনাটি তদন্তাধীন এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে দোষীদের শনাক্ত করার কথা জানান। এই ঘটনা র‌্যাবের ইউনিফর্মের অপব্যবহারের পুনরাবৃত্তি, যা জনমনে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

দুর্নীতি প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, পুলিশের দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে সাংবাদিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি নিজের বা আইজিপির দুর্নীতির প্রমাণ পেলে তা প্রকাশের আহ্বান জানান। গুম কমিশনের প্রতিবেদন প্রসঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, “আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু স্বার্থান্বেষী কর্মকর্তা গুমের সঙ্গে জড়িত ছিল।” তিনি এ বিষয়ে তদন্ত ও বিচারের প্রতিশ্রুতি দেন।

ভারত থেকে পুশ-ইন নিয়ে তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতের হাই কমিশনারের কাছে কঠোর প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, “জঙ্গলে বা নদীতে ফেলে দেওয়া অমানবিক। আমরা আমাদের নাগরিকদের প্রপার চ্যানেলে ফিরিয়ে নেব, এবং ভারতের নাগরিকদেরও একইভাবে ফেরত পাঠাব।”

পরিদর্শনের সময় আইজিপি বাহারুল আলম, র‍্যাব মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান, এপিবিএন প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, এবং র‍্যাব-১ এর লে. কর্নেল জাহিদুল করীম উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *