নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ-newsedge4

পাকিস্তানের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগবিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আহসান ইকবাল বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে পাকিস্তান সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সোমবার পাকিস্তান সরকারের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর অনলাইন জিও নিউজের।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের প্রতিনিধিত্ব করে আহসান ইকবাল ঢাকায় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের পর তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং নির্বাচনে বিজয়ের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানান। সাক্ষাতে দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

আহসান ইকবাল দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি ও অভিন্ন ভূ-অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে সার্ক পুনরুজ্জীবনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ঐতিহাসিক দ্বন্দ্ব-সংঘাতের কারণে দক্ষিণ এশিয়া বিশ্বের সবচেয়ে কম সংযুক্ত অঞ্চলগুলোর একটি হয়ে আছে।

তিনি ‘পাকিস্তান-বাংলাদেশ নলেজ করিডোর’ গঠনের প্রস্তাব দেন, যাতে একাডেমিক, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধি পায়। পাকিস্তানের হায়ার এডুকেশন কমিশন (এইচইসি) বিশ্ববিদ্যালয় চুক্তি, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বিনিময় কর্মসূচি চালুর বিষয়টি বিবেচনা করবে বলে জানান তিনি। আহসান ইকবাল ঘোষণা করেন, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০০টি বৃত্তি বরাদ্দ করা হয়েছে, যার মধ্যে ইতিমধ্যে ৭৫ জন পাকিস্তানের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছেন।

দুই পক্ষ পাকিস্তান ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকস, ন্যাশনাল ডাটাবেজ অ্যান্ড রেজিস্ট্রেশন অথরিটি (নাদরা) এবং বাংলাদেশের সমপর্যায়ের সংস্থাগুলোর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও আলোচনা করেন। এতে তথ্যব্যবস্থা, ডিজিটাল শাসন ও সক্ষমতা উন্নয়নে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর জোর দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিসভার শপথ, ৪১ জনই নতুন মুখ

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই), কুটিরশিল্প, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং সরাসরি ফ্লাইট চালুর মাধ্যমে যোগাযোগ বৃদ্ধির সুযোগ নিয়েও কথা হয়। বৈঠকে আহসান ইকবাল ‘ইকবাল একাডেমি’ পুনরুজ্জীবনের প্রস্তাব দেন এবং আগামী বছর আল্লামা মুহাম্মদ ইকবালের ১৫০তম জন্মবার্ষিকী যৌথভাবে উদযাপনের প্রস্তাব করেন। উভয় নেতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করার এবং আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *