ঈদের ছুটি কাটিয়ে অফিস খোলার প্রথম দিনেই গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠকে মিলিত হলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন।

মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সংস্কার কর্মসূচি ও আইএমএফের সঙ্গে চলমান সহযোগিতার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েই আলোচনা সঞ্চারিত হয় ।

রাজধানীর সচিবালয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকে ছিল আলাদা ব্যস্ততা। সাত দিনের ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকাল ৯টায় নিজ দপ্তরে পৌঁছেই তিনি গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠকের আয়োজন করেন। সেখানে তার সঙ্গে দেখা করেন আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং অর্থ সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার ।

এটি ছিল আইএমএফের শীর্ষ এই কর্মকর্তার সাথে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ। এর আগেই গুঞ্জন ছিল, ঈদের পরপরই এই বৈঠকটি হতে পারে। কারণ বর্তমানে বাংলাদেশ আইএমএফের সাথে $৫.৫ বিলিয়ন ডলারের একটি ঋণ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে, যার বাকি অর্থ ছাড়ের আগে সংস্কার কর্মসূচির অগ্রগতি যাচাই ও নতুন সরকারের পূর্ণাঙ্গ প্রতিশ্রুটি পেতে আগ্রহী সংস্থাটি ।

বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয়

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকে প্রধানত তিনটি বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রথমত, চলমান অর্থবছরের বাজেট পরিস্থিতি ও রাজস্ব আহরণে ঘাটতি মোকাবিলার কৌশল। দ্বিতীয়ত, ব্যাংক খাতের সংস্কার ও খেলাপি ঋণ কমানোর উদ্যোগ। এবং তৃতীয়ত, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ টেকসই পর্যায়ে রাখতে বিনিময় হার নমনীয়করণের অগ্রগতি ।

আইএমএফের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি আগামী অর্থবছরে ৪.৭ শতাংশে উন্নীত হতে পারে, তবে কর-জিডিপি অনুপাত উদ্বেগজনকভাবে নিম্নমুখী। সম্প্রতি আইএমএফের নির্বাহী পর্ষদ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রশংসা করলেও টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য ‘সাহসী’ সংস্কারের তাগিদ দিয়েছে ।

অর্থমন্ত্রীর ভূমিকা ও সভার প্রসার

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সেলেহ শিবলী জানান, এই সাক্ষাৎ ছিল মূলত সৌজন্য সাক্ষাৎ, তবে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় পারস্পরিক প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয় । প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আইএমএফ কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করেছেন যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেই সরকার সব পদক্ষেপ গ্রহণ করছে এবং সংস্কার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

অপরদিকে, আইএমএফের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। সংস্থাটি ইতোমধ্যে বাংলাদেশের জন্য ষষ্ঠ কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিলেও তা নির্ভর করছে সংস্কারের অগ্রগতির ওপর। আগামী এপ্রিলে ওয়াশিংটনে বসবে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক বসন্ত বৈঠক। সেখানেই আনুষ্ঠানিকভাবে পরবর্তী অর্থ ছাড়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে ।

ছুটির দিন শেষে অফিসে ফিরেই প্রধানমন্ত্রীর এই বৈঠক ইঙ্গিত দেয়, অর্থনৈতিক কূটনীতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। আইএমএফের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে এই সাক্ষাৎকে বিশ্লেষকরা ‘সম্পর্ক পুনরুজ্জীবন’ ও ‘সংস্কার প্রতিশ্রুতি’ হিসেবে দেখছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *