বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, নারীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের পর জামায়াতে ইসলামী ‘আইডি হ্যাক’ হয়েছে বলে অজুহাত দিয়েছে। অথচ বিশেষজ্ঞরা পরিষ্কারভাবে বলেছেন, আইডি এভাবে হ্যাক হতে পারে না। এরা মানুষের সামনে মিথ্যা তুলে ধরেছে, এদের একটাই পরিচয়—এরা মিথ্যাবাদী। যারা লাখ লাখ মানুষের সামনে মিথ্যা বলে, এরা আর যাই হোক কখনো জনদরদি হতে পারে না। এরা ধর্মকে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য।
আজ রোববার বিকেলে খুলনার প্রভাতী স্কুল মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে জনতার ঢল নামে। কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় মাঠ।
তারেক রহমান বলেন, “যে রাজনৈতিক দল নির্বাচনের আগে নারীদের নিয়ে অসম্মানজনক বক্তব্য দেয়, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে তাদের আচরণ কেমন হতে পারে, তার নজির ১৯৭১ সালেই দেশবাসী দেখেছে। যাদের কাছে মানুষের মর্যাদা ও আত্মসম্মানবোধ নেই, তাদের হাতে দেশ কখনো নিরাপদ হতে পারে না।”
নারীদের অধিকার নিয়ে গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “জনসংখ্যার অর্ধেক হচ্ছে নারী, তাই তাদের পেছনে রেখে যতই পরিকল্পনা করি না কেন, কোনোভাবে দেশ পুনর্গঠন করা সম্ভব নয়। আমরা দেখছি একটি রাজনৈতিক দলের নেতা পরিষ্কারভাবে বলেছে, তারা কোনোভাবেই নারী নেতৃত্বকে বিশ্বাস করে না। যে সকল মায়েরা কর্মসংস্থানে যায় তাদের নিয়ে খুব বাজে ভাষায় মন্তব্য করেছে। তিনি নারীদের পরিষ্কারভাবে অসম্মানিত করেছেন। তারা নাকি ইসলাম কায়েম করবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর স্ত্রী একজন সফল ব্যবসায়ী।”
ক্ষমতায় এলে বিএনপির প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন—এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দলমত নির্বিশেষে সকল মানুষকে সঙ্গে নিয়েই এই পুনর্গঠন করতে হবে। শুধু এক ধরনের মানুষকে নিয়ে দেশ গড়া যায় না। বিএনপি শুধু পচা ফুলঝুরিতে বিশ্বাস করে না, বরং দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে চায়। গত ১৬ বছরে বিএনপির বহু নেতাকর্মী গুম, খুন ও গায়েবি মামলার শিকার হয়েছেন। একই সময়ে দেশের মানুষ ভোট দেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। আগামী ১২ তারিখ বাংলাদেশে মানুষ সেই অধিকার গ্রহণ করবে। ক্ষমতায় আসলে আমাদের প্রথম দায়িত্ব হবে দেশকে পুনর্গঠন করা।”
তারেক রহমান অভিযোগ করে বলেন, “একটি মহল বলার চেষ্টা করছে এবার ভোট গণনা করতে অনেক সময় লাগবে। যারা নারীদেরকে হেয় প্রতিপন্ন করছে, এরাই আবার ষড়যন্ত্র শুরু করছে বিভিন্নভাবে।”
তিনি দাবি করেন, বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একমাত্র বিএনপিরই দেশ পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাই একমাত্র বিএনপির পক্ষেই দেশকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব। বিএনপি জানে কীভাবে দেশকে দুর্নীতি থেকে মুক্ত করতে হয় এবং নিরাপদ পরিস্থিতি গড়ে তুলতে হয়। আমরা কাজ করি শুধুমাত্র জনগণের জন্য।
খুলনার উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “খুলনায় আইটি পার্কসহ বিভিন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। কৃষকদের হাতে কৃষি কার্ড তুলে দিয়ে বীজ, সার ও কীটনাশক সহজে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। নারীদের স্বাবলম্বী করা, মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করা, বেকারদের কর্মসংস্থান ও শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা গেলে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। যেভাবে ১৯৭১ সালে দেশকে স্বাধীন করা হয়েছিল একইভাবে জুলাই অভ্যুত্থানে সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করা হয়েছে। আমরা সকল ধর্ম বর্ণের মানুষকে নিয়ে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।”
উল্লেখ্য, দীর্ঘ ২২ বছর পর খুলনায় জনসভায় যোগ দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার সমাবেশকে ঘিরে জনসমুদ্রে পরিণত হয় সমাবেশস্থল।



















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































