আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে সরকারের প্রজ্ঞাপন জারি-newsedge24

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। সোমবার (১২ মে ২০২৫) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি এই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গত ১৬ বছরে আওয়ামী লীগের নেতিবাচক কার্যক্রম এবং জুলাই-অগাস্ট ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান দমনে গণহত্যায় দলটির ভূমিকার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ধারা-১৮(১) অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ ও এর নেতাকর্মীদের বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দলটির সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে যেকোনো প্রকাশনা, গণমাধ্যম, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা, মিছিল, সভা-সমাবেশ, সম্মেলনসহ সকল ধরনের কর্মকাণ্ড।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে জুলাই-অগাস্টের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে দেশের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব, জুলাই আন্দোলনের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বাদী ও সাক্ষীদের সুরক্ষার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (৮ মে ২০২৫) জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ছাত্রশিবিরসহ বেশ কয়েকটি ছাত্র সংগঠন আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। তারা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের সামনে অবস্থান এবং শাহবাগে ব্লকেড কর্মসূচি পালন করে। এই আন্দোলনের প্রেক্ষিতে শনিবার (১০ মে ২০২৫) রাতে উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠকে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সোমবার এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ২৩ অক্টোবর ২০২৪-এ আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। এছাড়া, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন করে রাজনৈতিক দল, অঙ্গসংগঠন ও সমর্থক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

এই প্রজ্ঞাপনের ফলে আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী প্রধান দল এবং দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দলগুলোর একটি, তার রাজনৈতিক কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এটিকে অসাংবিধানিক ও ইতিহাসবিরোধী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *