রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প-newsedge24

আজ মঙ্গলবার ইতিহাসের পাতায় যুক্ত হতে যাচ্ছে নতুন এক অধ্যায়। দেশীয় বিদ্যুৎ খাতের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ‘পারমাণবিক বিদ্যুৎ’ উৎপাদনের পথে চূড়ান্ত প্রস্তুতির নামে রূপপুর প্রকল্পে শুরু হচ্ছে জ্বালানি লোডিং। পাবনার রূপপুরে আজ প্রথম ইউনিটে প্রবেশ করছে ইউরেনিয়াম। এই এক পদক্ষেপেই বাংলাদেশ প্রবেশ করছে বিশ্বের মাত্র ৩৩টি পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশের কাতারে।

দীর্ঘ দুই দশকের পরিকল্পনা, প্রযুক্তিগত জটিলতা ও নানা বাঁধা পেরিয়ে আজ বাস্তবের মাটিতে দাঁড়াতে যাচ্ছে ‘বাংলাদেশের মণিকোটা’ খ্যাত এই প্রকল্প। পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়াম লোডিংয়ের অর্থ হলো— বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় সব শেষ পরীক্ষা সফল। এখন অপেক্ষা কেবল একটি চেইন রিঅ্যাকশনের, যা থেকে উৎপন্ন তাপে বাষ্প তৈরি হবে, আর সেই বাষ্পেই ঘুরবে টারবাইন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের বলেন, “বাংলাদেশের যে বিদ্যুৎ সংকট ও চাহিদার চাপ, এ প্রকল্প তার জন্য গেমচেঞ্জার। জ্বালানি লোডিং শেষে ধাপে ধাপে ডিসেম্বর-জানুয়ারির মধ্যে প্রথম ইউনিটের পূর্ণ ১২০০ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। তাতে বিদ্যুতের অস্থিরতা কমবে ব্যাপক হারে।”

প্রথম ইউনিটের সফল জ্বালানি লোডিংয়ের পর দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ দ্রুত শেষ করাও জরুরি। প্রকল্পটির মোট সক্ষমতা ২৪০০ মেগাওয়াট। আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিট চালু হলে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সমস্যার বড় সমাধান হবে।

আজকের এই ‘ফুয়েল লোডিং’ কেবল একটি প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ নয়; এটি বাংলাদেশের শক্তি নিরাপত্তার ক্যানভাসে উজ্জ্বল এক তুলির আঁচড়। এক সময় ‘বিদ্যুৎ সংকট’ শব্দটি শহর-গ্রামের মানুষের নিত্যদিনের অভিশাপ ছিল। আজ সেই অভিশাপ ঘুচানোর পথে সবচেয়ে বড় অধ্যায়ের সূচনা। কয়েক মাস পর রূপপুর থেকে উৎপন্ন আলো যখন গ্রাম-বাংলার বাড়িতে পৌঁছাবে, তখন প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই দিনটিকেই মনে রাখবে বাংলাদেশের দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লবের সূচনা হিসেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *