দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ আগামী ২৭ ডিসেম্বর অবসরে যাচ্ছেন। ফলে চলতি সপ্তাহেই নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৮(৩) অনুসারে রাষ্ট্রপতির একক ক্ষমতায় প্রধান বিচারপতি নিয়োগের বিধান রয়েছে। তবে রীতি অনুসারে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতিকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ছাড়া আরও ৬ জন বিচারপতি রয়েছেন। জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে তারা হলেন, বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক, বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামা এবং বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।
অভ্যুত্থানপরবর্তী বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সুপারিশে বলা হয়েছে, প্রধান বিচারপতি নিয়োগে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতিকে নিয়োগ দেওয়া উচিত। কমিশন মনে করে, এতে রাজনৈতিক প্রভাব এড়ানো যাবে এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা রক্ষা পাবে। সংস্থানের ৪৮(৩), ৫৫(২) এবং ৯৫(১) অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাবও করা হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জ্যেষ্ঠ বিচারপতির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকলে দ্বিতীয় জ্যেষ্ঠ বিচারপতিকে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি দেশপ্রেম, বিচার বিভাগের প্রতি দায়বদ্ধতা ও সততার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, “আশা করি চলতি সপ্তাহে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ চূড়ান্ত হবে। অতীতে মেয়াদ শেষের কয়েকদিন আগে নিয়োগ হয়েছে। জ্যেষ্ঠতা একটি বিষয়, তবে সততা, দেশপ্রেম এবং অতীত বিচারিক কার্যক্রমও বিবেচনায় নিতে হবে। জুলাই অভ্যুত্থানের প্রতি তার ধারণাও গুরুত্বপূর্ণ।”
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির মধ্যে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নাম প্রধান বিচারপতি হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ২৭ ডিসেম্বর ৬৭ বছর পূর্ণ হলে অবসরে যাবেন। সুপ্রিমকোর্টে শীতকালীন অবকাশ শুরু হওয়ায় ১৮ ডিসেম্বরই তিনি শেষবারের মতো এজলাসে বসেন। ওই দিন অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় ও সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি তাকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেয়। অধস্তন আদালতের বিচারকদের উদ্দেশে বিদায়ী অভিভাষণও দেন তিনি।
আরও পড়ুন: পঞ্চদশ সংশোধনীর চূড়ান্ত শুনানি নির্বাচনের পর: আপিল বিভাগ
উল্লেখ্য, অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট সুপ্রিমকোর্ট ঘেরাওয়ের পর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানসহ ছয় বিচারপতি পদত্যাগে বাধ্য হন। সেদিনই আন্দোলনকারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হয়। এটি বিচার বিভাগের ইতিহাসে বিরল ঘটনা।



















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































