প্রধানমন্ত্রী-তারেক রহমান-newsedge24

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায় না এবং ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চায় না। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ক্রেস্ট ও বুদ্ধমূর্তির প্রতিবিম্ব তুলে দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অতীতেও আমরা ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করিনি, ভবিষ্যতেও করব না। আমাদের সরকারের স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি হলো— ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা সবার।”

তিনি বলেন, “দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ যাতে শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারে, সেমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের প্রধান দায়িত্ব ও অঙ্গীকার। প্রত্যেক নাগরিক যেন বিনা বাধায় নিজ ধর্মীয় রীতি-নীতি ও অধিকার স্বাধীনভাবে অনুসরণ করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।”

তিনি আরও বলেন, পৃথিবীতে যতগুলো ধর্ম আছে, প্রতিটি ধর্মই মানুষকে কল্যাণ ও শান্তির দিকে আহ্বান করে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মগুরু মহামতি গৌতম বুদ্ধ তার অনুসারীদের জন্য পঞ্চশীল নীতি প্রদান করেছিলেন। এগুলো হলো— প্রাণী হত্যা না করা, চুরি না করা, ব্যাভিচার থেকে বিরত থাকা, মিথ্যা না বলা এবং মাদক থেকে দূরে থাকা। প্রেম, অহিংসা ও সর্বজীবে দয়া বৌদ্ধ ধর্মের মূল শিক্ষা।

তারেক রহমান বলেন, “পঞ্চশীলসহ ধর্মীয় নির্দেশনাগুলো শুধু বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য নয়, প্রতিটি মানুষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রীয় আইনের পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিক যদি নিজ নিজ ধর্মীয় নীতি যথাযথভাবে অনুসরণ করেন, তাহলে আমরা একটি মানবিক রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ে তুলতে পারব।”

আরও পড়ুন: কয়েক মাসের মধ্যে চালু হবে বন্ধ শিল্পকারখানা: প্রধানমন্ত্রী

তারেক রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় কেউ ধর্মের পরিচয় জিজ্ঞাসা করেনি। মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবাই লাখো প্রাণের বিনিময়ে এই দেশ স্বাধীন করেছেন। তাই এই বাংলাদেশ শুধু একটি ধর্মের নয়, এটি আমাদের সকলের।

তিনি ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’কে বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক দর্শন উল্লেখ করে বলেন, “একমাত্র বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনই দেশের সকল ধর্ম, বর্ণ, সম্প্রদায় ও নৃগোষ্ঠীর নিবিড় সহাবস্থান নিশ্চিত করতে পারে। তাই কেউ নিজেকে সংখ্যালঘু ভাববেন না। আমরা সবাই বাংলাদেশি।”

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান, প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকারসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *